মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে নতুন করে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহে। করোনা মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে যখন বৈদেশিক শ্রমবাজার ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল, তখনই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

সরকারি জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত তিন মাসে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য গেছেন এক লাখ ৫৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মী। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল দুই লাখ ৬০ হাজারের বেশি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিদেশগামী কর্মী কমেছে প্রায় ৪১ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের কারণে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ প্রধান শ্রমবাজারগুলোতে নতুন নিয়োগ কার্যক্রম কমে গেছে। একই সঙ্গে ফ্লাইট সংকট ও বিমানভাড়া বৃদ্ধির কারণে বিদেশযাত্রাও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

শুধু চলতি বছরেই সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, জর্দান, আরব আমিরাত ও ইরাকে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। বিমানভাড়া আগের ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা থেকে বেড়ে প্রায় এক লাখ টাকায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর শ্রমবাজারের কারণে বিকল্প বাজার তৈরি না হওয়ায় যেকোনো সংকটে বাংলাদেশ সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়ছে। তারা বলছেন, দক্ষ শ্রমিক তৈরি, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি জোরদার এবং নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান এখন সময়ের দাবি।

অন্যদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রবাসী কাজ হারিয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন, যা রেমিট্যান্স প্রবাহেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের বৈদেশিক শ্রমবাজার আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রাইমটিভি/এনজি