বাংলাদেশে এসে কেনো কেঁদেছিলেন শাকিরা !

ছবিঃ সংগৃহীত ইউনিসেফ
বিশ্বকাপের উন্মাদনা মানেই ল্যাটিন পপ কুইন শাকিরার ‘ওয়াকা ওয়াকা’ কিংবা ‘লা লা লা’ গানের তুমুল সুর আর গ্ল্যামার। তবে এই বিশ্বখ্যাত তারকার গ্ল্যামারাস রূপের আড়ালে রয়েছে এক মানবিক হৃদয়, যার এক অনন্য সাক্ষী বাংলাদেশ। প্রায় দুই দশক আগে, ২০০৭ সালে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ যখন দেশের উপকূলীয় অঞ্চলকে লণ্ডভণ্ড করে দেয়, তখন ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে তিন দিনের আকস্মিক সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন শাকিরা।

১৬ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় নেমেই তিনি ছুটে যান পটুয়াখালীর সিডর-বিধ্বস্ত এলাকায়। ধ্বংসস্তূপের মাঝে শিশুদের বুকে টেনে নিয়ে শোনেন তাদের গল্প। সেখানে মা-বাবাকে হারানো ১১ বছর বয়সী নিপার মুখে ‘মা, তুমি যেখানেই থাকো, আমাকে একটি চিঠি লিখো’ গানটি শুনে আবেগাপ্লুত শাকিরা বলেছিলেন, এই কণ্ঠ তিনি কোনোদিন ভুলবেন না। চরম শোকের মাঝেও শিশুদের মুখে ডাক্তার-নার্স হওয়ার ইতিবাচক স্বপ্ন দেখে তিনি স্বস্তি পেয়েছিলেন।

কলম্বিয়ায় জন্ম নেওয়া শাকিরা মাত্র আট বছর বয়সে বাবার দেউলিয়া হওয়া এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কষ্ট দেখে বড় হয়েছেন, যা তাকে ১৮ বছর বয়সেই ‘পিয়েস দেসকালসোস’ (খালি পা) ফাউন্ডেশন গড়তে অনুপ্রাণিত করে। প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে সাধারণ মানুষের বাস্তব জীবন দেখতে চাওয়া শাকিরা বাংলাদেশ সফর শেষে বিশ্ববাসীর কাছে এ দেশের শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। ফুটবল মঞ্চ কাঁপানো এই তারকার বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এসে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর গল্পটি আজও এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
প্রাইমটিভি/বিএম

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।








