মুস্তাফা মনোয়ার শুধু একজন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন আজীবনের শিক্ষক, নির্দেশক এবং অতুলনীয় সৃষ্টিশীল মানুষ। ভিজ্যুয়াল বা দৃশ্যভাষা বোঝাতে এই উপমহাদেশে তার সমকক্ষ খুব কমই জন্মেছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) যাত্রালগ্নে ১৯৬৪ সালে স্টেশন প্রডিউসার হিসেবে যোগ দিয়ে পরবর্তী সময়ে উপমহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তার অনন্য সৃষ্টি ‘নতুন কুঁড়ি’ অনুষ্ঠানটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম শিল্পী গড়ে তুলেছে।

এছাড়া ‘আজব দেশে’ অনুষ্ঠানে ‘বাঘা ও মেনি’ পাপেট চরিত্রের মাধ্যমে তিনি তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকদের সংস্কৃতিবিরোধী মনোভাব ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরতেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রক্তকরবী’ এবং উইলিয়াম শেকসপিয়ারের নাটক অবলম্বনে তার নির্মিত ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’ যুক্তরাজ্যের গ্রানাডা টেলিভিশনের ওয়ার্ল্ড হিস্টোরি অব টিভি ড্রামার জন্য মনোনীত হয়েছিল, যা বাংলাদেশের জন্য এক বিরল অর্জন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতায় বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক দলের নেতৃত্ব দেন মুস্তাফা মনোয়ার। সেই কঠিন সময়ে শিল্প-সংস্কৃতিকে তিনি হাতিয়ারে পরিণত করেছিলেন এবং কলকাতায় লেখকের ‘পশ্চিমের সিঁড়ি’ নাটকের নির্দেশনাও দিয়েছিলেন, যা পরে স্বাধীন দেশে মঞ্চস্থ হয়।

জলরং, তেলরং ও গ্রাফিক্সে সমান দক্ষ এই মহান শিল্পী প্রতিষ্ঠান, মানুষ এবং শিল্পের ভাষা তৈরি করে গেছেন। তার প্রয়াণে দেশের শিল্পাঙ্গনের একটি বড় অধ্যায়ের অবসান ঘটল, তবে তাঁর শেখানো শিল্পবোধ ও সাহসী সাংস্কৃতিক অবস্থান চিরকাল পথ দেখাবে।

 

প্রাইমটিভি/বিএম