মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা যখন থমথমে, ঠিক সেই মুহূর্তেই কূটনৈতিক তৎপরতায় নেমেছে পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আবারও আলোচনার টেবিলে বসাতে চার দিনের গুরুত্বপূর্ণ সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সফরের গন্তব্য সৌদি আরব, কাতার এবং তুরস্ক। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি আরব ও কাতারে হবে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, আর তুরস্কে আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের ফাঁকে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন তিনি। এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি জানিয়েছেন, শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে জোরালো যোগাযোগ করছেন শাহবাজ।


বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলছে দুই সপ্তাহের নাজুক যুদ্ধবিরতি। যার মেয়াদ ২২ এপ্রিল পর্যন্ত। তবে এর মধ্যেও উত্তেজনা থামেনি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এর ২১ ঘণ্টার বৈঠক ব্যর্থ হলেও, নতুন করে আলোচনার আশার আলো দেখছেন কূটনীতিকরা। এদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন খুব শিগগিরই পাকিস্তানে আবারও আলোচনা শুরু হতে পারে। সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে উঠে এসেছে ইসলামাবাদ ও জেনেভার নাম। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলছেন, এই সংকট এক বৈঠকে সমাধান সম্ভব নয়, তবে আলোচনা আবার গতি পাবেব এটাই আশার জায়গা।  


বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে যেকোনো আলোচনা হবে কঠিন পরীক্ষার মুখে। কারণ যুদ্ধবিরতির মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ আর ইরানের হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ সীমিত করার সিদ্ধান্তে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বমুখী। এখন প্রশ্ন একটাই কূটনীতির এই দৌড় কি থামাতে পারবে সম্ভাব্য সংঘাত, নাকি পরিস্থিতি গড়াবে আরও বড় সংকটের দিকে ?