সিরিয়া ও আফগানিস্তানের হাজারো শরণার্থীর আশ্রয়ের আবেদন পুনর্মূল্যায়ন শুরু করেছে গ্রিস। এতে দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে বসবাসরত বহু শরণার্থী ফেরত পাঠানোর আশঙ্কায় পড়েছেন। ইউরোপজুড়ে কঠোর অভিবাসন নীতির প্রেক্ষাপটে গ্রিসের এই পদক্ষেপ নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।  

সিরীয় নাগরিক বাশির ২০১৪ সাল থেকে গ্রিসে বসবাস করছেন। গৃহযুদ্ধের সময় আশ্রয় পাওয়া এই ব্যক্তি বর্তমানে পরিবার গড়েছেন, ভাষা শিখেছেন এবং নিজস্ব ব্যবসাও শুরু করেছেন। তবে সম্প্রতি গ্রিক কর্তৃপক্ষ তাকে নতুন করে ব্যাখ্যা দিতে বলেছে, কেন তিনি গ্রিসে এসেছিলেন এবং কেন এখন সিরিয়ায় ফিরে যেতে পারবেন না।

শুধু সিরীয় নয়, আফগান শরণার্থীরাও একই ধরনের নোটিশ পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। তাদের ভাষ্য, সিরিয়া ও আফগানিস্তানে সংঘাত কমেছে, এমন যুক্তিতে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার কাঠামো কঠোর করা হচ্ছে। তবে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, দুই দেশেই নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।

সিরিয়ায় দীর্ঘদিন পর ফিরে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক শরণার্থী। কেউ রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে, কেউ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতার কারণে ফিরে যেতে অনিচ্ছুক। অনেকেই জানিয়েছেন, দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত হলে তারা অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করবেন।

গ্রিসের অভিবাসনমন্ত্রী থানোস প্লেভরিস চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জানান, যেসব আশ্রয় অনুমোদন বাতিল করা সম্ভব, সেগুলো পুনরায় পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত বছর প্রায় ২০০ জনের আশ্রয় বাতিল করা হয়, যা আগের এক দশকের মোট সংখ্যার প্রায় অর্ধেক।

সমালোচকরা বলছেন, নতুন নীতিতে ধর্মীয় পক্ষপাতের ইঙ্গিতও রয়েছে। সম্প্রতি প্লেভরিস প্রকাশ্যে বলেন, গ্রিস এমন দেশ থেকে শ্রমিক নিতে বেশি আগ্রহী, যাদের সঙ্গে “সাধারণ মূল্যবোধ” মেলে এবং যারা ধর্মীয়ভাবে নিরপেক্ষ বা খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ।

অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করতে ২০২৫ সালে নতুন আইনও পাস করেছে গ্রিস। এতে বহিষ্কার আদেশ মানতে অস্বীকৃতি জানালে আটক, ইলেকট্রনিক নজরদারি, জরিমানা ও বন্দি শিবিরে রাখার বিধান রাখা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় চুক্তি কার্যকর হওয়ার আগে সীমান্তবর্তী দেশ হিসেবে গ্রিস নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করছে। কারণ, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার অস্থিতিশীলতা ভবিষ্যতে নতুন শরণার্থী ঢলের আশঙ্কা তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপে এখন অভিবাসন নীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ‘বড় পরিসরে প্রত্যাবাসন’। তবে এই প্রক্রিয়া মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সুরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।