মাসব্যাপী রাজনৈতিক আলোচনার পর ডেনমার্কের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডরিকসন একটি মধ্যবামপন্থী জোট সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। দেশটির সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারার ফলে শসরকার গঠন সংক্রান্ত একাধিক আলোচনার পর এমন ঘোষণা এলো। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

মার্চের নির্বাচনে মোট ১২টি দল সংসদে আসন পায়। সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা সর্বাধিক ভোট পেলেও ১৯০৩ সালের পর এটি ছিল তাদের সবচেয়ে দুর্বল পারফরম্যান্স। তারা ২১. শতাংশ ভোট পেয়ে ৩৮টি আসন অর্জন করে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ আসনের অনেক নিচে।

রাজা ফ্রেডেরিক এক্স-এর সঙ্গে সাক্ষাতের পর ফ্রেডরিকসন সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘ জটিল আলোচনার পর রাজনৈতিক সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে এবং তিনি বুধবার নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণা করবেন।

রাজপ্রাসাদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন জোট সরকারে থাকবে বামপন্থী দল সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস, সোশ্যালিস্ট পিপলস পার্টি, মধ্যবামপন্থী দল র‍্যাডিকেল ভেনস্ট্রে এবং মধ্যপন্থী মডারেটস।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, রাজা বুধবার সকালে কোপেনহেগেনের অমালিয়েনবর্গ প্রাসাদে নতুন সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করবেন।

সরকার গঠনের ঘোষণা এমন সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যা ডেনমার্কের জন্য কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে।

ফ্রেডেরিকসেন বলেন, নির্বাচনের পর থেকে দেশটি ৬৯ দিন সরকারবিহীন অবস্থায় ছিল। নতুন সরকার গঠনের মাধ্যমে অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, কল্যাণনীতি এবং কৃষি-পরিবেশ সংক্রান্ত ইস্যুগুলোতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রাণী অধিকার, পানীয় জলে কীটনাশকের প্রভাব এবং কৃষির জলবায়ু-প্রভাবও নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ফ্রেডেরিকসেন জানান, নতুন সরকারের নীতিগত ভিত্তি আগামীকাল বিস্তারিতভাবে জানানো হবে এবং এটি বর্তমান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে কাজ করবে।

উল্লেখ্য, নির্বাচনে ডানপন্থী লিবারেল পার্টি ভেনস্ট্রের ফলও ইতিহাসের অন্যতম দুর্বল ছিল, এবং ডানপন্থী ড্যানিশ পিপলস পার্টি তাদের ভোট প্রায় তিনগুণ বাড়িয়ে শতাংশে উন্নীত করেছে।