লেবানন ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মত হলেও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছেন, ইসরায়েল আপাতত লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখবে এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না। মার্কিন সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এই খবরটি জানিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে কেবল তখনই যখন হিজবুল্লাহ সম্পূর্ণরূপে হামলা বন্ধ করবে এবং লিতানি নদী থেকে সীমান্ত পর্যন্ত এলাকা থেকে তাদের সকল সদস্যকে সরিয়ে নেবে। তবে বিবৃতিতে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারের কোনো উল্লেখ নেই। কাৎজ স্পষ্ট করে বলেন, বিউফোর্ট দুর্গসহ দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের স্বঘোষিত নিরাপত্তা অঞ্চলে সেনারা থাকবে এবং সেখানে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রত্যাবর্তন ছাড়াই অভিযান চলবে।

এদিকে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ এই আলোচনার অংশ নয় এবং চুক্তি বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডসের কুদস ফোর্সের কমান্ডার বলেছেন, যুদ্ধ শুরুর আগে ইসরায়েল যে অবস্থানে ছিল সেখানে ফিরে যাওয়াই প্রতিরোধ বাহিনীর ন্যূনতম দাবি। হিজবুল্লাহ ওয়াশিংটনের আলোচনা থেকে লেবাননকে সরে আসারও দাবি জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় সোহমোর শহরে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। একটি ড্রোন বৈরুতের আকাশেও উড়তে দেখা গেছে। এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব লেবাননের মার্জায়ুনে মর্টার হামলায় আহত হওয়া জাতিসংঘের একজন শান্তিরক্ষী বৃহস্পতিবার মারা গেছেন বলে ইউনিফিল জানিয়েছে।

ইসরায়েলের অতি-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির যুদ্ধবিরতিকে "গুরুতর ভুল" বলে আখ্যা দিয়ে বিষয়টি মন্ত্রিসভায় ভোটে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি যুক্তি দেন, হিজবুল্লাহ লিতানি নদীর দক্ষিণ থেকে সরবে না এবং লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষে হিজবুল্লাহকে বাধ্য করা সম্ভব নয়।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ওয়াশিংটনের বিবৃতিকে "ব্যাপক ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির চূড়ান্ত সুযোগ" বলে অভিহিত করেছেন। ইসরায়েলের অভিযানে এখন পর্যন্ত লেবাননের ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।