মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রা রুপিয়ার মূল্য সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার রুপিয়ার মান ১৮,০২৮-এ নেমে মনোবৈজ্ঞানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ১৮,০০০-এর সীমা অতিক্রম করেছে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এই খবরটি জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ায় তেল আমদানিনির্ভর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো, বিশেষত ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন, মারাত্মক চাপে পড়েছে। এতে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে মূলধন বহির্গমন ও মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঘটছে।

পারমাতা ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ জোসুয়া পার্দেদে জানান, জ্বালানি আমদানিতে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য উদ্বৃত্ত সংকুচিত হওয়াই রুপিয়ার পতনের মূল কারণ। এপ্রিলে ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য উদ্বৃত্ত মাত্র ৮ কোটি ৯০ লাখ ডলারে নেমে এসেছে, যা আগের মাসে ছিল ৩৩০ কোটি ডলার।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাংক ইন্দোনেশিয়া গত মাসে সুদের হার ০.৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৫.২৫ শতাংশ করেছে, যা দুই বছরের মধ্যে প্রথম বৃদ্ধি। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কেনার ক্ষেত্রেও নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মে মাস থেকে কেউ মাসে ২৫,০০০ ডলারের বেশি কিনতে চাইলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করতে হচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়াসহ ৬০টি দেশের পণ্যে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে, যা আঞ্চলিক অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।