যুদ্ধবিরতির পরেও গাজায় স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি গড়ছে ইসরায়েল

গাজা উপত্যকার মধ্যাঞ্চলে 'ইয়েলো লাইন' সংলগ্ন একটি সামরিক অবস্থানে ইসরায়েলি সেনারা, ২৬ মে ২০২৬। ছবি: এপি
গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী গাজা থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারের কথা থাকলেও ইসরায়েল উল্টো পথে হেঁটে অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডজুড়ে স্থায়ী ও সুরক্ষিত সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করে চলেছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণপূর্বক এই তথ্য উঠে এসেছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।
আল জাজিরার ওপেন সোর্স ইউনিট ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণ করে গাজায় ইসরায়েলের ৪০টি সামরিক ঘাঁটি শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে আটটি ঘাঁটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সম্পূর্ণ নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে এবং একটি এখনো নির্মাণাধীন রয়েছে।
নতুন ঘাঁটিগুলো উত্তর গাজায় দুটি, মধ্যাঞ্চলে দুটি, নেৎজারিম করিডোরের পূর্বে একটি এবং দক্ষিণের খান ইউনিসে তিনটি কৌশলগত স্থানে নির্মিত হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, খান ইউনিসের পূর্ব কবরস্থানের ধ্বংসাবশেষের উপর সরাসরি একটি নতুন সামরিক ঘাঁটি গড়ে তোলা হয়েছে।
এছাড়া বিদ্যমান ঘাঁটিগুলোও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করা হচ্ছে। গাজা সিটির পূর্বে একটি ঘাঁটির আয়তন অক্টোবর ২০২৫ থেকে মে ২০২৬-এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে। মধ্য গাজায় একটি ঘাঁটির চারদিকে গভীর প্রতিরক্ষামূলক পরিখা খোঁড়া হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।
৪০টি সামরিক ঘাঁটির ভৌগোলিক বিন্যাস বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঘাঁটিগুলো মাটির প্রাচীর, পরিখা ও সামরিক সড়কের মাধ্যমে পরস্পর সংযুক্ত এবং ফিলিস্তিনি জনবসতিগুলোকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে। এতে বেসামরিক নাগরিকদের চলাচল ও জমিতে প্রবেশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুল্লাহ আকরাবাওয়ি সতর্ক করে বলেন, এই নির্মাণকাজ কেবল অস্থায়ী বাফার জোন রক্ষার উদ্দেশ্যে নয়, বরং এটি ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ যুদ্ধের প্রস্তুতির অবকাঠামো।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে এখন পর্যন্ত গাজায় প্রায় ৭৩,০০০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭২ হাজারেরও বেশি আহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। যুদ্ধবিরতির পরেও সাত মাসে অন্তত ৯২৯ জন নিহত এবং ২,৮১১ জন আহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









