গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েল ছেড়ে যাওয়া নাগরিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং দেশে আসার চেয়ে যাওয়ার সংখ্যা বেশি হয়ে গেছে। ইসরায়েলি পার্লামেন্টের কমিশনে করা এক গবেষণায় এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এই খবরটি জানিয়েছে।

ওয়াইনেটে প্রকাশিত গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ২ লাখ ১০ হাজারেরও বেশি ইসরায়েলি দেশ ছেড়েছেন। ২০০৯ থেকে ২০২১ সালে বার্ষিক গড় ছিল ৪০ হাজার, সেই তুলনায় এই সংখ্যা তীব্রভাবে বেশি। একই সময়ে দেশে ফেরার সংখ্যা কমেছে, ফলে মোট পার্থক্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজারে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, যারা দেশ ছাড়ছেন তাদের বড় অংশই তরুণ ও উচ্চশিক্ষিত। তথ্য বলছে, ৪৮ শতাংশ অভিবাসী ২০ থেকে ৪৪ বছর বয়সী, যদিও এই বয়সী মানুষ মোট জনসংখ্যার মাত্র ৩২ শতাংশ। ২০২২ সাল থেকে যারা গেছেন তাদের মধ্যে ৩৩ শতাংশের স্নাতক, ২১.৫ শতাংশের স্নাতকোত্তর এবং ৩.৭ শতাংশের পিএইচডি ডিগ্রি রয়েছে। গণিত, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞানের মতো কৌশলগত বিষয়ের স্নাতকরা এই তালিকায় অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বেশি। এছাড়া ২০২৪ সালে যারা দেশ ছেড়েছেন তাদের ৫২ শতাংশ ইসরায়েলে জন্মগ্রহণ করেছেন।

ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেসেট সদস্য গিলাদ কারিভ বলেন, "আগামীকালের বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তারা জনসংখ্যায় তাদের অনুপাতের চেয়ে অনেক বেশি হারে ইসরায়েল ছেড়ে যাচ্ছেন।" তিনি এটিকে "দেশের ভবিষ্যতের জন্য কৌশলগত হুমকি" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামরিক বাধ্যবাধকতা নিয়ে বিতর্ক এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতা দেশ ছাড়ার এই প্রবণতাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।