মৃতদেহখেকো ব্লোফ্লাই পোকাই কি ঠেকাবে পরবর্তী মহামারি?

ব্লোফ্লাই যেখানে বসে সেখান থেকে পরিবেশের তথ্য — রাসায়নিক পদার্থ ও প্রাণীর ডিএনএ — সংগ্রহ করে। গ্রেট স্মোকি মাউন্টেনস-এ গবেষকরা প্লাস্টিকের ফাঁদ দিয়ে এই পোকা ধরে মাঠেই বিশ্লেষণ করেন। ছবি: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক
মৃতদেহ ও মলে বিচরণকারী সাধারণ একটি পোকা, ব্লোফ্লাই হয়ে উঠতে পারে রোগব্যাধির বিরুদ্ধে প্রকৃতির প্রাকৃতিক সতর্কব্যবস্থা। মার্কিন বিজ্ঞান সাময়িকী ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এক গবেষণা প্রবন্ধে এই তথ্য তুলে ধরেছে।
টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এক্সপ্লোরার চ্যারিটি উইংস এবং তার দল গ্রেট স্মোকি মাউন্টেনস ন্যাশনাল পার্কে ব্লোফ্লাইয়ের পেটের ভেতরের উপাদান পরীক্ষা করে রোগজীবাণু শনাক্তের একটি বৈপ্লবিক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। পোকাগুলো যেসব প্রাণীর সংস্পর্শে আসে তাদের ডিএনএ এবং বিভিন্ন রাসায়নিকের তথ্য বহন করে। এই তথ্য বিশ্লেষণ করে দ্রুত ও সহজে রোগজীবাণুর উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব।
বর্তমানে দলটি পরীক্ষা করে দেখছে, কানাডা থেকে আনা এল্কের মাধ্যমে ইকিনোকক্কাস গ্র্যানুলোসাস নামের একটি ফিতাকৃমি পরজীবী পার্কের এল্ক জনগোষ্ঠীতে ছড়িয়ে পড়েছে কিনা। এই পরজীবী হৃদপিণ্ড, ফুসফুস ও যকৃতে বড় সিস্ট তৈরি করতে পারে এবং কোয়োট, পোষা কুকুর হয়ে শেষ পর্যন্ত মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় ইতিবাচক ফলাফল পাওয়ার পর দলটি টেনেসি বন্যপ্রাণী সম্পদ সংস্থাকে সতর্ক করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
গবেষকরা একটি পোর্টেবল ডিএনএ বিশ্লেষণ যন্ত্র ব্যবহার করে মাঠেই ফলাফল পাচ্ছেন, যা সনাতন পদ্ধতির তুলনায় অনেক দ্রুত ও সাশ্রয়ী। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো এই পরীক্ষাকে কোভিড পরীক্ষার মতো সহজ করে তোলা, যাতে বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই পার্ক রেঞ্জাররা ব্যবহার করতে পারেন।
এই পদ্ধতির প্রয়োগ আরও ব্যাপক। ইতোমধ্যে রাসায়নিক অস্ত্রের উপাদান শনাক্তে ব্লোফ্লাই ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে সংঘাতপ্রবণ এলাকায় কাজে লাগতে পারে। এছাড়া নিখোঁজ ব্যক্তির ডিএনএ সনাক্ত এবং নতুন প্রাণী প্রজাতি শনাক্তেও এই পোকার ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে বলে গবেষকরা জানাচ্ছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









