হিজবুল্লাহর প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করল ইরান, শান্তিচুক্তি অনিশ্চিত

ইরানের রাজধানী তেহরানে সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনির সমর্থনে আয়োজিত একটি সমাবেশে হিজবুল্লাহর পতাকা হাতে এক নারী, ৪ জুন ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
ইরান তার লেবানিজ মিত্র হিজবুল্লাহর প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আঞ্চলিক যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির সম্ভাবনা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। মার্কিন সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এই খবরটি জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে লেবাননের টেলিভিশন চ্যানেল আল মায়াদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, "লেবাননেও যুদ্ধ শেষ না হলে এই যুদ্ধের পরিসমাপ্তি হবে না।" তিনি স্পষ্ট করেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতির সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার অবশ্যই যুক্ত থাকতে হবে।
ইরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো শান্তিচুক্তির পূর্বশর্ত হিসেবে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করার দাবি জানিয়ে আসছে। এর আগে হিজবুল্লাহ নেতা নাইম কাসেম মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া ইসরায়েল-লেবানন চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন, কারণ চুক্তিতে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো বিধান নেই এবং হিজবুল্লাহ আলোচনায় অংশীদার ছিল না।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই বলেছেন, হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধে বড় ত্যাগ স্বীকার করেছে এবং ইরান তার মিত্রের প্রতি প্রতিশ্রুতিতে অটল থাকবে। তিনি বৈরুতে হামলার ইসরায়েলি হুমকির বিরুদ্ধেও সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
এদিকে চলতি সপ্তাহে লেবানন, গাজা, উত্তর ইসরায়েল ও কুয়েতে যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও হামলা অব্যাহত রয়েছে। বুধবার উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানি ও মার্কিন বাহিনীর মধ্যে এপ্রিলের পর সবচেয়ে তীব্র লড়াই হয়েছে। শুক্রবার ওমানের মিনা আল ফাহাল তেলবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনায় তেল বোঝাই সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়, পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
হরমুজ প্রণালী এখনো মূলত বন্ধ, যা আগে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের পাঁচ ভাগের এক ভাগ বহন করত। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি শুক্রবার সতর্ক করেছে, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ খাদ্য সংকটের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









