হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কোম্পানিগুলো বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি রোসনেফটের প্রধান নির্বাহী ইগর সেচিন। তাঁর অভিযোগ, ওয়াশিংটন নিজেদের স্বার্থে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের কাঠামো বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এ খবরটি জানিয়েছে। 

শনিবার সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র সেচিন বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধের পদক্ষেপ মূলত ইরানকে লক্ষ্য করে নেওয়া হলেও এর প্রভাব পড়েছে পুরো বিশ্বের ওপর।

তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালি বন্ধ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের নিয়মকাঠামোকে যুক্তরাষ্ট্রের সুবিধামতো পুনর্গঠনের একটি প্রচেষ্টা। এতে কৌশলগত ঝুঁকিগুলোকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।”

সেচিনের দাবি, এ পরিস্থিতিতে মার্কিন কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতাহীন সুবিধা পেয়েছে এবং উচ্চমূল্যের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ইরান ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে। এর আগে ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করে।

বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহের পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বিশ্ববাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এতে তেলের দাম কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সেচিন সতর্ক করে বলেন, হরমুজের পর মালাক্কা প্রণালি, বাব আল-মান্দেব ও জিব্রাল্টার প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এ সময় তিনি ওপেক প্লাস জোট নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর ভাষ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশের জোট ছাড়ার ফলে ওপেক প্লাস আগের প্রভাব হারাচ্ছে। তাঁর দাবি, গত এক দশকে জোটটির উৎপাদন সক্ষমতা দৈনিক ৫ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল থেকে কমে ৩ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে।