ট্রাম্প-খামেনির বৈঠক হবে না, আলোচনায় অচলাবস্থা কাটাতে ২৪ বিলিয়ন ডলার দাবি ইরানের

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই। ছবি: আশারক আল আওসাত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি এখন ২৪ বিলিয়ন ডলারের জমাটবদ্ধ ইরানি সম্পদ মুক্তির শর্তে আটকে আছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই শুক্রবার মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান।
রেজাই বলেন, "আলোচনা অচলাবস্থায় রয়েছে এবং ট্রাম্পকেই এই অচলাবস্থা ভাঙতে হবে। বল এখন ট্রাম্পের কোর্টে।" তিনি জানান, ইরান চায় একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে ১২ বিলিয়ন ডলার এবং পরবর্তী ধাপে আরও ১২ বিলিয়ন ডলার আমাদের দেওয়া হোক। তিনি এই দাবিকে আস্থা গড়ার পরীক্ষা হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, "এটা আমাদের নিজেদের অর্থ, আমেরিকার নয়।"
তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এই সম্পদ মুক্তিতে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এটি করা হলে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের মূল চাপের হাতিয়ার দুর্বল হয়ে পড়বে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির চেয়ে অনেক শক্তিশালী কোনো সমঝোতা চান এবং নগদ অর্থ হস্তান্তরের মতো কিছু করতে রাজি নন।
ট্রাম্প ও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতাবা খামেনির মধ্যে সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনাও নাকচ করে দেন রেজাই। "এটি হবে না। এই মুহূর্তে আমরা আলোচনার প্রথম পর্যায়ে আছি এবং মিস্টার ট্রাম্প আলোচনা থামিয়ে দিয়েছেন," তিনি বলেন। এই সপ্তাহেই ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি খামেনির সঙ্গে বৈঠক করতে পারলে "সম্মানিত" বোধ করবেন এবং দুজনের সম্পর্ক "ভালোই যাচ্ছে"।
যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে ইরান পারস্য উপসাগরের বাইরে সংঘাত ছড়িয়ে দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রেজাই। হরমুজ প্রণালি থেকে শুরু করে ভারত মহাসাগর, বাব আল-মান্দাব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করা হবে বলে তিনি জানান। তবে একই সঙ্গে বলেন, "যুদ্ধের সম্ভাবনা কম।"
হরমুজ প্রণালির সার্বভৌমত্বের বিষয়ে রেজাই দাবি করেন, ইরান ও ওমান মিলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পরিচালনা করবে এবং জাহাজ চলাচলের জন্য রক্ষণাবেক্ষণ ফি আরোপ করা হবে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।
রেজাই পরমাণু চুক্তির স্থায়িত্ব নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন। ২০১৫ সালের চুক্তি থেকে ট্রাম্পের সরে আসার নজির তুলে ধরে তিনি বলেন, আলোচনায় ট্রাম্পের "অস্পষ্টতার কৌশল" তাঁকে উদ্বিগ্ন করছে। আলোচনা ব্যর্থ হলে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আক্রমণ চালালে পরিণতি ভয়াবহ হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ইরান-ইরাক যুদ্ধে অংশ নেওয়া রেজাই ১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সর্বোচ্চ নেতার পরামর্শদাতা সংস্থা এক্সপিডিয়েন্সি কাউন্সিলে যোগ দেন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির আমলে উপরাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









