অপরাধ ও অস্থিরতার মাঝে পেরুতে ভোট, মুখোমুখি ফুজিমোরি-সানচেজ

গুলিবিদ্ধ বাস চালক তোনিও — চাঁদাবাজ গ্যাংয়ের অর্থ দাবির পর তাঁর পেটে ও পায়ে গুলি করা হয়। ছবি: বিবিসি
পেরুতে রোববার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ডানপন্থী কেইকো ফুজিমোরি ও বামপন্থী রবার্তো সানচেজের মধ্যে মূল লড়াই। ক্রমবর্ধমান অপরাধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতাই ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
চাঁদাবাজির শিকার বাস চালক তোনিও বলেন, "তারা আমার পেটে ও পায়ে গুলি করেছে। চার মাস কাজ করতে পারিনি। ক্ষত শুকিয়েছে, কিন্তু ভেতরে এখনো ব্যথা। পরের প্রেসিডেন্ট যেই হোন, অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর হবে, এমন কোন সরকার দরকার।"
লিমার একটি বাস কোম্পানিকে ১৫ হাজার ডলার দাবি করে হুমকি দিয়েছিল একটি সশস্ত্র গ্যাং। "দাবি না মানলে তোমার চালকদের হত্যা করব।" এরপরই তোনিওর ওপর হামলা চালানো হয়। ২০২৫ সালে পেরুতে প্রায় ৩০ হাজার চাঁদাবাজির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। গত বছর ২৩৯ জন বাস চালক খুন হয়েছেন। নিরাপত্তাহীনতাই এই নির্বাচনে ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ।
ডানপন্থী কেইকো ফুজিমোরির সমর্থক পিয়েরো বলেন, "কঠোর হাতের অভাব এখন প্রকটভাবে অনুভূত হচ্ছে। পেরু অপরাধে উপচে পড়ছে।" বামপন্থী সানচেজের সমর্থক মারিয়া এলেনা বলেন, "আমাদের সোনা-তামা বিদেশে চলে যাচ্ছে, আমরা দারিদ্র্যে ডুবে আছি।"
ফুজিমোরি সেনা মোতায়েন ও কারাগার নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সানচেজ খনিচুক্তি পর্যালোচনা ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর কথা বলছেন, যা আর্থিক বাজারে অস্বস্তি তৈরি করেছে। শুক্রবার একটি আদালত সানচেজের বিরুদ্ধে অঘোষিত নির্বাচনী অর্থায়নের অভিযোগে বিচারের নির্দেশ দেয়। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।
গত দশ বছরে পেরু আটজন প্রেসিডেন্ট দেখেছে। কংগ্রেসে কোনো দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় বিশ্লেষকরা বলছেন, যিনিই জিতুন শাসন পরিচালনা কঠিন হবে। তরুণ ভোটার কনসুয়েলো (২১) বলেন, দুই প্রার্থীর মধ্যে বেছে নেওয়া যেন "কম খারাপটা বেছে নেওয়া।"

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









