বিয়ের আগের শারীরিক সম্পর্ক চরিত্রহীনতার মাপকাঠি হতে পারে না: সুপ্রিম কোর্ট

ছবি- সংগৃহীত
অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের পারস্পরিক সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ককে এককভাবে কোনো ব্যক্তির চরিত্র সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরির ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না বলে রায় দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
সোমবার (৮ জুন) পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার একটি রায়ে আদালত এই মন্তব্য করে নির্বাচিত প্রার্থীর নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেন।
‘বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’ দিয়ে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগকে ২০১৪ সালে মামলা লোক আদালতে সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়।
আদালত জানায়, দুই প্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত ব্যক্তির সম্মতিমূলক শারীরিক সম্পর্ককে কখনোই এককভাবে চরিত্রহীনতার প্রমাণ হিসেবে ধরা যাবে না। আইনে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই যেখানে দুই প্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত ব্যক্তি নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী সম্পর্কে জড়াতে পারবেন না।
রায়ে আরও বলা হয়, সব সম্পর্কই বিয়েতে পরিণত হয় না—এটি স্বাভাবিক সামাজিক বাস্তবতা। তাই সম্পর্ক বিয়েতে গড়ায়নি বলেই এক পক্ষকে প্রতারক বলা যুক্তিসঙ্গত নয়।
আদালত স্পষ্ট করে জানায়, লোক আদালতে আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া কোনো ফৌজদারি মামলায় অপরাধ স্বীকারের সমান নয়। এমনকি কোনো মামলা আপসে শেষ হলেও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কেবল সেই কারণে প্রার্থীর বিরুদ্ধে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, যদি না জোরপূর্বক সমঝোতার প্রমাণ থাকে।
মামলার প্রেক্ষাপটে আদালত জানায়, প্রার্থী তার আবেদনপত্রে আগেই ওই মামলার তথ্য প্রকাশ করেছিলেন। অভিযোগে বলা হয়েছিল, বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়েছিল।
তবে আদালতের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়, অভিযোগ প্রমাণে কোনো শক্তিশালী প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং অভিযোগকারীও পরবর্তীতে মামলা চালিয়ে যাননি।
সুপ্রিম কোর্ট আরও জানায়, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র তখনই কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যখন অপরাধ সংঘটনের স্পষ্ট প্রমাণ এবং তার সঙ্গে প্রার্থীর সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
শেষ পর্যন্ত আদালত তেলেঙ্গানা পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের প্রার্থীর নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেন এবং তার নিয়োগ পুনর্বহাল করার নির্দেশ দেন।
প্রাইমটিভি/কেআর

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









