ভারতে বিজেপি নেতাকে জ্যান্ত পুড়িয়ে ‘হত্যা’

ছবি- এন ডি টিভি
ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের কোরিয়া জেলায় বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ট্রাক দিয়ে একটি ফর্চুনার এসইউভির পথরোধ করে তাতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে জীবন্ত দগ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন বিজেপি নেতা ও সাবেক জনপদ পঞ্চায়েত সভাপতি ভরত সিং (লল্লা সিং)সহ তিনজন।
মঙ্গলবার গভীর রাতে সোনহাট থানার অন্তর্গত নওগাইন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারের দাবি, বালু খনি সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলেন ভরত সিং। তবে এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ফাঁদ।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত অক্ষত ত্রিপাঠী, বিশাল ত্রিপাঠী, সত্যপ্রকাশ ত্রিপাঠী ও মান্নু ত্রিপাঠী নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও কয়েকজনকে ধরতে অভিযান চলছে। হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক গুরুতর ধারায় নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকার বালু মহালের ইজারা ভরত সিংয়ের পরিবারের হাতে ছিল। পরবর্তীতে বালু পরিবহন ও অবৈধ চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভরত সিং ও বিজেপি নেতা মনোজ ত্রিপাঠীর পরিবারের মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে। কয়েক মাস ধরে চলা এই দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে ভরত সিং ও তার সহযোগীরা ফর্চুনার গাড়িতে করে যাওয়ার সময় তাদের গাড়ির সামনে ও পেছনে ট্রাক দাঁড় করিয়ে পালানোর পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলেই ভরত সিং মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তার সহযোগী বিরেন্দ্র সিং। নিহতদের মধ্যে আরও রয়েছেন নাগেন্দ্র সিং, যিনি পেশায় একজন শিক্ষক এবং ভরত সিংয়ের চাচাতো ভাই।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ময়াঙ্ক সিং। তাকে বিলাসপুরের অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাত রয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুরেশা চৌবে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ত্রিপাঠী ও ঠাকুর পরিবারের দীর্ঘদিনের বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারধরের পর গাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে।
সোনহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) বিনোদ পাসওয়ান বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল এবং এ সংক্রান্ত একাধিক মামলাও রয়েছে। সম্প্রতি অবৈধ বালু উত্তোলন পুনরায় শুরু হওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহত ভরত সিংয়ের পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই)-এর তদন্ত দাবি করেছে। তারা এ ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর উল্লেখ করে বলেছেন, ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। দোষীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে স্থানীয় বিধায়ক ভাইয়ালাল রাজওয়াদে এবং সাবেক বিধায়ক গুলাব কামরো ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তথ্য সূত্র- এন ডি টিভি
প্রাইমটিভি/কেআর

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









