চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন ট্রাম্প : মোজতবা খামেনি

ছবি- সংগৃহীত
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি দাবি করেছেন, এই চুক্তি ইরানের আগ্রহে নয়, বরং ওয়াশিংটনের প্রবল আগ্রহ ও চাপের ফলেই সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট চুক্তিটি সম্পন্ন করতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করেছেন।
বিবৃতিতে তিনি আরও জানান, ব্যক্তিগতভাবে তিনি এই সমঝোতার পক্ষে ছিলেন না। তবে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইরানের জাতীয় স্বার্থ ও আঞ্চলিক মিত্রদের স্বার্থ রক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়ায় তিনি চুক্তির অনুমোদন দেন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ উভয় দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমানো এবং একটি স্থায়ী চুক্তির পথ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে গৃহীত হয়েছে। চুক্তির আওতায় আগামী ৬০ দিনের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যান্য বিরোধপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখতে সহযোগিতা করবে ইরান। এর বিনিময়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ইরানের প্রেসিডেন্ট পৃথকভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান এই সমঝোতাকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি নয়; বরং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার জন্য একটি কাঠামো তৈরি করেছে। আগামী ৬০ দিনের আলোচনা প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের পরবর্তী গতিপথ।
সূত্র: এএফপি, রয়টার্স, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম
প্রাইমটিভি/কেআর

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।








