পদত্যাগ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

ছবি- সংগৃহীত
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (২২ জুন) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এর ফলে গত এক দশকে যুক্তরাজ্য সপ্তম প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছে।
পদত্যাগের পর লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্টারমার বলেন, তিনি দলের সিদ্ধান্তকে সম্মানের সঙ্গে মেনে নিচ্ছেন এবং তার উত্তরসূরিকে পূর্ণ ও নিঃশর্ত সমর্থন দেবেন।
বিপুল ভোটে নির্বাচনে জয় লাভের মাধ্যমে ব্রিটেনের রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন স্টারমার। তবে সেই নির্বাচনী জয়ের দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হলো।
দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নেতৃত্বের লড়াইয়ে অংশ নেবেন নাকি সরে দাঁড়াবেন—এ সিদ্ধান্ত নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই গভীরভাবে চিন্তা করছিলেন স্টারমার। শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগের পথই বেছে নেন।
গত কয়েক মাস ধরে তার ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছিল। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্লামেন্টারি উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় লাভ করেন এবং পুনরায় ওয়েস্টমিনস্টারে ফেরার সুযোগ পান।
উপনির্বাচনে তিনি নাইজেল ফারাজের দল রিফর্ম ইউকে সমর্থিত প্রার্থীকে পরাজিত করেন। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা রিফর্ম ইউকের বিরুদ্ধে এই জয় লেবার পার্টির আইনপ্রণেতাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
লেবার পার্টির অনেক সদস্য মনে করছেন, দক্ষ যোগাযোগ ও জনপ্রিয় নেতৃত্বের কারণে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দলের হারানো জনসমর্থন ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হতে পারেন। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে কিয়ার স্টারমারের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল।
তবে নতুন নেতৃত্বের সামনেও বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহ্যাম এখন পর্যন্ত জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং দেশের মৌলিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট নয়।
এছাড়া উচ্চ সরকারি ঋণ, সুদ পরিশোধের বাড়তি ব্যয়, দীর্ঘমেয়াদি ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় সংকোচনের চাপ এবং প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নতুন নেতৃত্বকে একদিকে আর্থিক বাজারের আস্থা ধরে রাখতে হবে, অন্যদিকে সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশাও পূরণ করতে হবে।
এদিকে কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়ার পরই যুক্তরাজ্য পাবে তাদের নতুন প্রধানমন্ত্রী।
প্রাইমটিভি/কেআর

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









