মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি। সামুদ্রিক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান কেপলারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (৩০ জুন) প্রণালিটি দিয়ে মোট ৪০টি জাহাজ চলাচল করেছে, যা ইরান-সংকট শুরুর আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

কেপলারের তথ্যে দেখা যায়, চলাচলকারী ৪০টি জাহাজের মধ্যে ১৬টি ইরানের নিয়ন্ত্রিত নৌপথ ব্যবহার করেছে। এছাড়া ১২টি জাহাজের গতিপথ স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এসব জাহাজ তাদের স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (এআইএস) বন্ধ রেখেছিল অথবা এমন রুট ব্যবহার করেছে, যা নিশ্চিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়নি।

সংঘাত শুরুর আগে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলার আগে প্রতিদিন গড়ে শতাধিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করত। তবে যুদ্ধ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার পর থেকে এ রুটে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন করিডর হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)-এর বড় একটি অংশ পরিবহন করা হয়। ফলে এই নৌপথে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং শিপিং খাতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হলেও নিরাপত্তা ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। এ কারণে অনেক শিপিং কোম্পানি বিকল্প রুট ব্যবহার করছে, আবার অনেক জাহাজ অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে।

প্রাইমটিভি/এমএইচ