একজন সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুম শরীরকে বিশ্রাম দেয়, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা, মানসিক স্থিতি এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

অল্প ঘুম বা ঘুমের ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদি নানা সমস্যার কারণ হতে পারে। যেমন— মনোযোগ কমে যাওয়া, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, হরমোন জনিত সমস্যা, এমনকি হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস বা স্থূলতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। অপরদিকে অতিরিক্ত ঘুম (৯–১০ ঘণ্টার বেশি) নিয়মিত হলে সেটিও শরীরের জন্য ভালো নয়, কিছু স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।

সাধারণভাবে প্রাপ্তবয়স্ক (১৮–৬০ বছর) মানুষের জন্য প্রতিদিন রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। এই সময়ের মধ্যে শরীর নিজেকে পুনর্গঠন করে, কোষগুলো মেরামত হয় এবং মস্তিষ্ক নতুন তথ্য সংরক্ষণ করে। তবে ব্যক্তিভেদে এই সময় কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। কেউ কেউ ৬ ঘণ্টা ঘুমিয়েও সতেজ অনুভব করেন, আবার কারও ৮–৯ ঘণ্টা না হলে ক্লান্তি কাটে না।

বেশির ভাগ সময় দেখা যায়, তরুণ-তরুণী, এমনকি প্রাপ্ত বয়স্ক লোকেরা রাতে ঘুমাতে দেরি হয়। রাতে অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার, সারারাত বসে টিভি, সিরিজ, মুভি, গান এবং গেইম খেলার প্রবণতা এখন বেড়েই চলেছে।

ভালো ঘুমের জন্য কিছু অভ্যাস মেনে চলা জরুরি। যেমন— প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠা, ঘুমানোর আগে মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার কমানো, ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় যেমন- চা, কফি, সফট ড্রিঙ্ক এড়িয়ে চলা এবং আরামদায়ক পরিবেশে ঘুমানো। যার ফলে নানা রকম সমস্যা দেখা দিচ্ছে।