পরকীয়ায় ঘরছাড়া বাবা-মা, পথে পথে ঘুরছে সন্তানরা

ছবিঃসংগৃহীত
মা তুমি যেখানেই থাকো, ফিরে আসো। বাবা সবকিছু মেনে নেবে। তোমাকে ছাড়া আর ভালো লাগে না, মা।” — কান্নাজড়িত কণ্ঠে এসব কথা বলছে ছোট মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস। পরকীয়ার টানে অজানার উদ্দেশে ঘর ছাড়েন তার মা হেনা বেগম। এরপর থেকেই মায়ের খোঁজে পথে পথে ঘুরছে দুই সন্তান।
অশ্রুসিক্ত জান্নাতুল ফেরদৌস আরও বলে, “সবাই বলছে আমার মাকে নিয়ে গেছে, তখন আমার খুব খারাপ লাগে। আমার মাকে ফিরিয়ে দেন, বাবা আর কিছু বলবে না, সব মেনে নেবে।”
সন্তানদের জড়িয়ে ধরে বাবা পলাশ খালাসী বলেন, “বাচ্চাদের জন্য আমাকে সবকিছু মেনে নিতে হবে। আমি চাই না তারা মায়ের আদর থেকে বঞ্চিত হোক। সৎ মা কখনও আপন মায়ের জায়গা নিতে পারে না।”
তিনি আরও জানান, স্ত্রীকে খুঁজতে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করা হয়েছে। “আমরা অনেক জায়গায় গেছি, আত্মীয়স্বজনের বাসায় খুঁজেছি, থানাতেও গেছি। কিন্তু কোথাও পাইনি। মামলা করার কথাও বলা হয়েছে, কিন্তু এখনো কিছু হয়নি।”
একই ধরনের কষ্টের গল্প সীমা আক্তারের পরিবারেও। সন্তানদের বাবাকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি আমার স্বামীকে মেনে নেব। শুধু চাই আমার সন্তান যেন এতিম না হয়, বাবার ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত না থাকে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার সন্তানের জন্য হলেও তিনি যেন ফিরে আসেন। আমরা চার দিন ধরে ঠিকমতো খেতে-ঘুমাতে পারছি না। সন্তানটা সারারাত কাঁদে।”
পাশাপাশি বসবাস করা দুই পরিবারের জীবনে নেমে এসেছে একই ধরনের বিপর্যয়। যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকার মৃধাবাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি বসবাস করত দুই পরিবার। একই কারখানায় কাজ করার সূত্রে পরিচয় হয় মোমেনুর হৃদয় ও হেনা বেগমের। সেই সম্পর্ক থেকেই গড়ে ওঠে ঘনিষ্ঠতা, যা শেষ পর্যন্ত দুই পরিবার থেকে তাদের বিচ্ছেদের দিকে নিয়ে যায়।
বর্তমানে দুই সন্তানকে নিয়ে দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন পলাশ খালাসী। অন্যদিকে সন্তানরা একটাই দাবি জানাচ্ছে—মাকে ফিরে পেতে চায় তারা, আর ভাঙা সংসার আবার আগের মতো হয়ে উঠুক।
প্রাইমটিভি/এমএইচ

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।








