নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চাঁন্দেরকান্দি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামে তিনদিন নিখোঁজ থাকার পর ওয়ালিদ হাসান (১৭) নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুলাই) দিবাগত রাতে স্থানীয় বাহেরচর মধ্যপাড়া এলাকায় জাকির মিয়ার বসতঘরের ভেতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, হত্যার পর মরদেহটি উঠানে ফেলে রাখা হয়েছিল এবং পরে গুমের উদ্দেশ্যে কাপড়ে মুড়িয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। এ সময় বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে তিনজন নারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

নিহত ওয়ালিদ হাসান ওই গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তিন দিন ধরে তিনি নিখোঁজ ছিলেন বলে জানা গেছে। প্রাথমিক সুরতহালে তার গলায় কালো দাগের চিহ্ন পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, তাকে গলায় ইলেকট্রিক তার পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

এ ঘটনায় জাকির মিয়া, তার স্ত্রী ফরিদা আক্তার এবং তাদের দুই মেয়ে মিন্নি ও প্রাণার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত জাকির মিয়ার মেয়ে প্রাণা আক্তার (১৭) এর সঙ্গে নিহত ওয়ালিদের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্কের জেরে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে বলে স্থানীয়দের দাবি।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জাকির মিয়া পলাতক রয়েছেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রাণা আক্তার, তার মা ফরিদা আক্তারসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক নাজমুল হাসান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রাইমটিভি/এনজি