বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপরে দুধকুমারের পানি,নিম্নাঞ্চলে আতঙ্ক

ছবিঃ সংগৃহীত
টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়ছে। এরই মধ্যে দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, দুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ সময় নদীর পানি রেকর্ড করা হয়েছে ২৯ দশমিক ৮৩ মিটার, যেখানে বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৬০ মিটার। সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা আরও ৭ সেন্টিমিটার বেড়েছে। একই সময়ে সেখানে ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম পয়েন্টে পানির উচ্চতা ২৫ দশমিক ৪৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে পানির উচ্চতা ৩০ দশমিক ৪৭ মিটার, যা বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচে। কুড়িগ্রাম সদরে এ সময় ৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া ও হাতিয়া পয়েন্টে পানি ২ সেন্টিমিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এখনো এসব পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চিলমারীতে ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
অন্যদিকে তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টেও পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়ছে। সকাল ৯টায় সেখানে পানির উচ্চতা দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ২৫ মিটার, যা বিপৎসীমার মাত্র ৬ সেন্টিমিটার নিচে। মাত্র তিন ঘণ্টায় এ পয়েন্টে পানি ২৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। কাউনিয়ায় এ সময় ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, উজানের ঢলের কারণে দুধকুমার নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে এবং জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানিও ক্রমাগত বাড়ছে। বন্যা পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৭২ ঘণ্টায় পানির উচ্চতা আরও বৃদ্ধি পেয়ে জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রাইমটিভি/এমএইচ

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।







