২০১৮ সালের ঐতিহাসিক কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম আলোচিত নেত্রী লুৎফুন্নাহার লুমা গন অধিকার পরিষদ এবং এনসিপিকে নিয়ে সম্প্রতি একটা ফেসবুক পোস্ট করেছেন।তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন খারাপ সময়ে দল ত্যাগ করে সুবিধামতো যায়গা বেচে নেওয়া বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া কিছু না।

তিনি আওয়ামীলীগের সময়ে গন অধিকার পরিষদের লড়াই-সংগ্রাম করে টিকে থাকা নিয়েও বলেছেন।তরুণদের এই দুই দলের বেশীরভাগ নেতাকর্মী গন অধিকার পরিষদের রাজনীতিতে জড়িত ছিলো।৫ ই আগষ্টের পর অনেকেই এনসিপিতে যুক্ত হয়েছেন।

লুমা আরও বলেছেন, এখন জোট না হলেও ভবিষ্যতে এই দুই দলের জোট হতে পারে।তবে তাদের মধ্যে বিভাজন এবং একে অপরকে যে ভাষায় আক্রমণ করে সমালোচনা করেছে তা নিয়ে লুমা হতাশা প্রাকাশ করেছেন তবে তিনি বিশ্বাস করেন গন অধিকার পরিষদ খারাপ সময় পার করলেও দ্রুতই দল গুছিয়ে নিতে পারবেন এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে গন অধিকার পরিষদ এখনো প্রাসঙ্গিক।

তার ফেসবুক পোস্টের কিছু অংশ তুলে ধরা হলো,

২৮ ফেব্রুয়ারি রাজনৈতিক দল হিসেবে নাগরিক পার্টি আত্মপ্রকাশ করে।

সেই দিন টা ছিলো গণঅধিকার পরিষদের জন্য সব থেকে ট্রাজেডির একটা দিন।

অনেক নেতাকর্মী আমজনতা পার্টি এবং গণঅধিকার পরিষদ থেকে নাগরিক পার্টিতে যোগ দেয়।

ইতিহাসের স্বাক্ষী হতে আমিও মানিকমিঞায় গিয়েছিলাম।

ভেতরে ঢুকতে আতা ভাই কে লাস্ট কল দিলে সে তখন ও বলেছিল চলে আসো কমিটিতে নাম দিয়ে দেই।

শহীদ পরিবারের পাশাপাশি ১৮ তে কোটা আন্দোলনের অনেক সহযোদ্ধার সাথে দেখা হয়েছিল।

সবাই দেখতে এসেছে।

কেউ বা যোগ দিতে।

সেদিনের মতো হতাশ কখনো লাগেনি আমার।

এমন অনেকের নাম দেখেছিলাম যারা তার লিস্ট প্রকাশের কয়েক মিনিট আগেও স্বীকার পর্যন্ত করেনি NCP তে যোগ দিচ্ছে।

সুদিন দেখে NCP তে যোগ দেওয়া দেখে মনে হচ্ছিলো, এর চাইতে বড় বিশ্বাসঘাতকতা আর কিছু হতে পারে না।

যদিও রাজনীতি তে এগুলো স্বাভাবিক।

১৮ এর আন্দোলনের মাধ্যমে যে পরিচিত পেয়েছিলাম।

সেই পরিচিত নিয়ে রাজনীতি করলেই জাতীয় নেতা থাকতাম।

যেহেতু কোন রাজনৈতিক দলের সাথে ছিলাম না,সেহেতু ১৮ এর আন্দোলনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা দল ই আমার শেকড় ছিলো।

সবাই শেকড় ছাড়তে পারে না।

রাজনীতি তে যুক্ত না হলেও কখনো গণঅধিকারের বাইরে অন্য কোন দলের রাজনীতি করবো,

এই সিদ্ধান্ত আমি ভবিষ্যতে ও নিতে পারবো না।

১৮ কিংবা ২৪ কোন আন্দোলনের পরেই আমার সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হয়নি।

বরং এক সময় যারা আমাকে গণঅধিকারের রাজনীতি তে যুক্ত হতে পা ধরা বাদ রেখেছিল।

তারা এখন অন্য রাজনৈতিক দলে যুক্ত হয়ে সারাদিন এদের গালাগালি করে।

এই সাইন্স টা ই বুঝিনা আমি।

স্বার্থ শেষ হলে সম্ভবত মানুষ এমন ই হয়।

এনসিপি আর গণঅধিকার আলাদা জোটে গেছে।

তাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেক কথা-কাটাকাটি সমালোচনা হয়।

কিন্তু রাজনীতি তে শেষ বলে কোন কথা নেই।

ভবিষ্যতে এরা যে এক সাথে জোট করবে না, তার কোন নিশ্চয়তা নেই।

নইলে দীর্ঘ ২৪ বছর রাজনৈতিক জোটে থেকে এখন বিএনপি জামাত একে অন্যের শত্রু।

অথচ ২০০৮,২০১৪,২০১৮,২০২৪ বিএনপি জামাত জোট হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।

নির্বাচন বয়কট ও করেছে।

২০১৮ সালে ধানেরশীষ প্রতীকে জামাত নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।

অথচ এখন এই দুই দলের দিকে তাকালে মনে হয় সাপে নেউলে সম্পর্ক।

অথচ এত বড় দলের সাথে দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক জোট বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল ঘটনা ।

যে সময়ে কেউ কথা বলতে সাহস পেত না।

সেই সময় টা গণঅধিকার কথা বলতো।

তাদের সাথে অন্যান্য রাজনৈতিক দল মিলে আন্দোলন সংগ্রাম করতো।

গণঅধিকার পরিষদের নেতারা ও যে ভুলের ঊর্ধ্বে না সেটাও জানি।

তাদের ও রাজনৈতিক অনেক ভুল আছে।

কিন্তু যে দল টা শেখ হাসিনার আমলে টিকে গেছে আর শেষ এনসিপির আত্মপ্রকাশেও টিকে গেছে।

এদের সহজে কেউ চাইলেই ধ্বংস করে দিতে পারবে না।

হয়তো গণঅধিকারের সময় টা এখন ভালো যাচ্ছে না।

কিন্তু আজীবন এমন থাকবে তাও না।

নতুন করে দল গুছিয়ে নেওয়া যাবে।

সুসময়ে দল কে বিপদে ফেলে যারা চলে গেছে।

তারাও জানে গণঅধিকার শেষ হয়ে যাবে না।

একদিন ঠিক ই আবার ঘুরে দাঁড়াবে।

৫ আগষ্টের পরে নুরুল হক নুরের উপর হা/মলা করে তাকে হ/ত্যা চেষ্টা ও দলের নেতাকর্মীদের মনে থাকবে।

আর যারা এখন আওয়ামিলীগ স্টাইলে ট্রল করে, গা/লা/গা/লি করে।

এরা ৫ আগষ্টের আগে সেম কাজ আওয়ামিলীগের সাথে করলে ওরা এতদিন মানুষ কে জিম্মি করে রাখতে পারত না।

সেই সময় প্রকাশ্যে রাজনীতি করতে হলে জান হাতে নিয়েই করা লাগতো।

প্রত্যেক টা বক্তব্য আর কথার জন্য জবাবদিহি করতে হতো।

অথচ ৫ আগষ্টের পরে কথা বলা মানুষদের সাথে এটা ঘটছে না।

বরং ৫ আগষ্টের রাজনীতি তে গালাগালি আর অন্যের সম্মানহানি ঘটানোর সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।

কারো রাজনৈতিক মতাদর্শের বাইরে গেলেই দালাল।

আপনার রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারলে অন্যের কেন থাকবে না?

কেউ জামাত পছন্দ করবে কেউ বিএনপি,কেউ গণঅধিকার আবার কেউ এনসিপি।

ঠিক সেভাবে ই কেউ আওয়ামিলীগ।

গা/লা/গা/লি আর নোংরামি করে তো কারো রাজনৈতিক মতাদর্শ পরিবর্তন করা যাবে না।

তাহলে এত ঘৃণা ছড়িয়ে লাভ কি?

আমার আসলেই আশ্চর্য লাগে দুইটা দল এত দীর্ঘ দিন জোটে থেকে। আন্দোলন সংগ্রাম করে মাত্র বছর খানেক আগ থেকে, আওয়ামিলীগের অনুপস্থিতিতে নিজেদের প্রতিপক্ষ হয়ে গেছে ।

পাশাপাশি তরুণ রাজনৈতিক দল যারা তাদের সাথে জোটে যায়নি,তাদের বিশ্রী ভাষায়

গা/লা/গা/লি করে, হেয় করতে সব রকম চেষ্টা করে।

এসব দেখে আমার মাঝেমধ্যে ই হতাশ লাগে।

মনে হয় এদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ সুস্থ হবে না।

অসুস্থ ই থেকে যাবে।২০১৮ সালের ঐতিহাসিক কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম আলোচিত নেত্রী লুৎফুন্নাহার লুমা গন অধিকার পরিষদ এবং এনসিপিকে নিয়ে সম্প্রতি একটা ফেসবুক পোস্ট করেছেন।তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন খারাপ সময়ে দল ত্যাগ করে সুবিধামতো যায়গা বেচে নেওয়া বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া কিছু না।

তিনি আওয়ামীলীগের সময়ে গন অধিকার পরিষদের লড়াই-সংগ্রাম করে টিকে থাকা নিয়েও বলেছেন।তরুণদের এই দুই দলের বেশীরভাগ নেতাকর্মী গন অধিকার পরিষদের রাজনীতিতে জড়িত ছিলো।৫ ই আগষ্টের পর অনেকেই এনসিপিতে যুক্ত হয়েছেন।

লুমা আরও বলেছেন, এখন জোট না হলেও ভবিষ্যতে এই দুই দলের জোট হতে পারে।তবে তাদের মধ্যে বিভাজন এবং একে অপরকে যে ভাষায় আক্রমণ করে সমালোচনা করেছে তা নিয়ে লুমা হতাশা প্রাকাশ করেছে।তবে তিনি বিশ্বাস করেন গন অধিকার পরিষদ খারাপ সময় পার করলেও দ্রুতই দল গুছিয়ে নিতে পারবেন এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে গন অধিকার পরিষদ এখনো প্রাসঙ্গিক।

তার ফেসবুক পোস্টের কিছু অংশ তিলে ধরা হলো,

২৮ ফেব্রুয়ারি রাজনৈতিক দল হিসেবে নাগরিক পার্টি আত্মপ্রকাশ করে।

সেই দিন টা ছিলো গণঅধিকার পরিষদের জন্য সব থেকে ট্রাজেডির একটা দিন।

অনেক নেতাকর্মী আমজনতা পার্টি এবং গণঅধিকার পরিষদ থেকে নাগরিক পার্টিতে যোগ দেয়।

ইতিহাসের স্বাক্ষী হতে আমিও মানিকমিঞায় গিয়েছিলাম।

ভেতরে ঢুকতে আতা ভাই কে লাস্ট কল দিলে সে তখন ও বলেছিল চলে আসো কমিটিতে নাম দিয়ে দেই।

শহীদ পরিবারের পাশাপাশি ১৮ তে কোটা আন্দোলনের অনেক সহযোদ্ধার সাথে দেখা হয়েছিল।

সবাই দেখতে এসেছে।

কেউ বা যোগ দিতে।

সেদিনের মতো হতাশ কখনো লাগেনি আমার।

এমন অনেকের নাম দেখেছিলাম যারা তার লিস্ট প্রকাশের কয়েক মিনিট আগেও স্বীকার পর্যন্ত করেনি NCP তে যোগ দিচ্ছে।

সুদিন দেখে NCP তে যোগ দেওয়া দেখে মনে হচ্ছিলো, এর চাইতে বড় বিশ্বাসঘাতকতা আর কিছু হতে পারে না।

যদিও রাজনীতি তে এগুলো স্বাভাবিক।

১৮ এর আন্দোলনের মাধ্যমে যে পরিচিত পেয়েছিলাম।

সেই পরিচিত নিয়ে রাজনীতি করলেই জাতীয় নেতা থাকতাম।

যেহেতু কোন রাজনৈতিক দলের সাথে ছিলাম না,সেহেতু ১৮ এর আন্দোলনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা দল ই আমার শেকড় ছিলো।

সবাই শেকড় ছাড়তে পারে না।

রাজনীতি তে যুক্ত না হলেও কখনো গণঅধিকারের বাইরে অন্য কোন দলের রাজনীতি করবো,

এই সিদ্ধান্ত আমি ভবিষ্যতে ও নিতে পারবো না।

১৮ কিংবা ২৪ কোন আন্দোলনের পরেই আমার সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হয়নি।

বরং এক সময় যারা আমাকে গণঅধিকারের রাজনীতি তে যুক্ত হতে পা ধরা বাদ রেখেছিল।

তারা এখন অন্য রাজনৈতিক দলে যুক্ত হয়ে সারাদিন এদের গালাগালি করে।

এই সাইন্স টা ই বুঝিনা আমি।

স্বার্থ শেষ হলে সম্ভবত মানুষ এমন ই হয়।

এনসিপি আর গণঅধিকার আলাদা জোটে গেছে।

তাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেক কথা-কাটাকাটি সমালোচনা হয়।

কিন্তু রাজনীতি তে শেষ বলে কোন কথা নেই।

ভবিষ্যতে এরা যে এক সাথে জোট করবে না, তার কোন নিশ্চয়তা নেই।

নইলে দীর্ঘ ২৪ বছর রাজনৈতিক জোটে থেকে এখন বিএনপি জামাত একে অন্যের শত্রু।

অথচ ২০০৮,২০১৪,২০১৮,২০২৪ বিএনপি জামাত জোট হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।

নির্বাচন বয়কট ও করেছে।

২০১৮ সালে ধানেরশীষ প্রতীকে জামাত নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।

অথচ এখন এই দুই দলের দিকে তাকালে মনে হয় সাপে নেউলে সম্পর্ক।

অথচ এত বড় দলের সাথে দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক জোট বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল ঘটনা ।

যে সময়ে কেউ কথা বলতে সাহস পেত না।

সেই সময় টা গণঅধিকার কথা বলতো।

তাদের সাথে অন্যান্য রাজনৈতিক দল মিলে আন্দোলন সংগ্রাম করতো।

গণঅধিকার পরিষদের নেতারা ও যে ভুলের ঊর্ধ্বে না সেটাও জানি।

তাদের ও রাজনৈতিক অনেক ভুল আছে।

কিন্তু যে দল টা শেখ হাসিনার আমলে টিকে গেছে আর শেষ এনসিপির আত্মপ্রকাশেও টিকে গেছে।

এদের সহজে কেউ চাইলেই ধ্বংস করে দিতে পারবে না।

হয়তো গণঅধিকারের সময় টা এখন ভালো যাচ্ছে না।

কিন্তু আজীবন এমন থাকবে তাও না।

নতুন করে দল গুছিয়ে নেওয়া যাবে।

সুসময়ে দল কে বিপদে ফেলে যারা চলে গেছে।

তারাও জানে গণঅধিকার শেষ হয়ে যাবে না।

একদিন ঠিক ই আবার ঘুরে দাঁড়াবে।

৫ আগষ্টের পরে নুরুল হক নুরের উপর হা/মলা করে তাকে হ/ত্যা চেষ্টা ও দলের নেতাকর্মীদের মনে থাকবে।

আর যারা এখন আওয়ামিলীগ স্টাইলে ট্রল করে, গা/লা/গা/লি করে।

এরা ৫ আগষ্টের আগে সেম কাজ আওয়ামিলীগের সাথে করলে ওরা এতদিন মানুষ কে জিম্মি করে রাখতে পারত না।

সেই সময় প্রকাশ্যে রাজনীতি করতে হলে জান হাতে নিয়েই করা লাগতো।

প্রত্যেক টা বক্তব্য আর কথার জন্য জবাবদিহি করতে হতো।

অথচ ৫ আগষ্টের পরে কথা বলা মানুষদের সাথে এটা ঘটছে না।

বরং ৫ আগষ্টের রাজনীতি তে গালাগালি আর অন্যের সম্মানহানি ঘটানোর সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।

কারো রাজনৈতিক মতাদর্শের বাইরে গেলেই দালাল।

আপনার রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারলে অন্যের কেন থাকবে না?

কেউ জামাত পছন্দ করবে কেউ বিএনপি,কেউ গণঅধিকার আবার কেউ এনসিপি।

ঠিক সেভাবে ই কেউ আওয়ামিলীগ।

গা/লা/গা/লি আর নোংরামি করে তো কারো রাজনৈতিক মতাদর্শ পরিবর্তন করা যাবে না।

তাহলে এত ঘৃণা ছড়িয়ে লাভ কি?

আমার আসলেই আশ্চর্য লাগে দুইটা দল এত দীর্ঘ দিন জোটে থেকে। আন্দোলন সংগ্রাম করে মাত্র বছর খানেক আগ থেকে, আওয়ামিলীগের অনুপস্থিতিতে নিজেদের প্রতিপক্ষ হয়ে গেছে ।

পাশাপাশি তরুণ রাজনৈতিক দল যারা তাদের সাথে জোটে যায়নি,তাদের বিশ্রী ভাষায়

গা/লা/গা/লি করে, হেয় করতে সব রকম চেষ্টা করে।

এসব দেখে আমার মাঝেমধ্যে ই হতাশ লাগে।

মনে হয় এদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ সুস্থ হবে না।

অসুস্থ ই থেকে যাবে।