পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এক যুবককে অপহরণ করে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন এবং তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ও পৌর বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা কলেজ এলাকা থেকে নাসির উদ্দিন মৃধা (৪০) নামে ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়। তিনি উপজেলার চরআলগী গ্রামের বাসিন্দা।

অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য ও দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আলী আজম চৌধুরী এবং বাউফল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম বিল্লাহ।

ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিনের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকালে একটি মামলায় হাজিরা দিতে তিনি পটুয়াখালী আদালতে যান। ফেরার পথে দুপুর সোয়া ১টার দিকে শহরের হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকায় এক ব্যক্তি তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন। এরপর আলী আজম চৌধুরীর নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁকে ঘিরে দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ এন এম জাহাঙ্গীর হোসেনের অবস্থান জানতে চান। তিনি কিছু জানেন না বললে মোটরসাইকেলে তুলে বাউফলে নিয়ে যাওয়া হয়।

তার দাবি, পরে তাঁকে ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা কলেজ এলাকার একটি কার্যালয়ে নিয়ে হাত-পা বেঁধে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করা হয় এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।

নাসির উদ্দিন আরও অভিযোগ করেন, অপহরণের সময় তাঁর বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে তিন হাজার টাকা এবং সঙ্গে থাকা সাড়ে তিন হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান এ এন এম জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে বিএনপি নেতা আলী আজম চৌধুরীর দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। নাসির উদ্দিন ওই চেয়ারম্যানের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত দুই নেতা। আলী আজম চৌধুরী দাবি করেন, নাসির উদ্দিন একজন মাদক ব্যবসায়ী এবং অপহরণের ঘটনায় তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। একইভাবে মাসুম বিল্লাহও বলেন, অপহরণের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে নাসির উদ্দিনকে উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে। তবে ঘটনাস্থল পটুয়াখালী সদর থানার আওতাভুক্ত হওয়ায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা সেখানে গ্রহণ করতে হবে বলে জানান তিনি।

প্রাইমটিভি/এমএইচ