বিশ্ব ফুটবলে জার্মানি মানেই শক্তি, সাফল্য আর প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্ক। ২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই চেনা রূপ দেখিয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে তারা আবারও আলোচনায় এসেছে।

এই জয় অনেকের মনে ফিরিয়ে এনেছে ২০১৪ বিশ্বকাপের সেই স্মৃতি, যখন সেমিফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিলকে একই ব্যবধানে হারিয়েছিল জার্মানি।

তবে প্রতিপক্ষকে বড় ব্যবধানে হারানোর ইতিহাস থাকলেও, বিশ্বকাপে জার্মানিরও আছে ৭ গোল হজমের লজ্জার রেকর্ড।

১৯৫৪ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে সুইজারল্যান্ডের বাসেলে শক্তিশালী হাঙ্গেরির মুখোমুখি হয়েছিল তৎকালীন পশ্চিম জার্মানি। সেই ম্যাচে জার্মান রক্ষণভাগকে পুরোপুরি ভেঙে দিয়ে ৮-৩ গোলের বিশাল জয় তুলে নেয় হাঙ্গেরি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটিই জার্মানির সবচেয়ে বড় পরাজয়।

কিংবদন্তি সান্দর কচিশ ও জোলতান চিবোরদের নেতৃত্বে আক্রমণের পর আক্রমণ চালিয়ে জার্মানিকে অসহায় করে তুলেছিল হাঙ্গেরি। ম্যাচজুড়ে আধিপত্য দেখিয়ে তারা জার্মানদের জালে আটবার বল জড়ায়।

তবে গল্পের শেষটা ছিল একেবারেই ভিন্ন। গ্রুপ পর্বে বড় ব্যবধানে হারের মাত্র দুই সপ্তাহ পরই বিশ্বকাপের ফাইনালে আবার মুখোমুখি হয় দুই দল।

ফুটবল বিশ্ব তখন হাঙ্গেরিকেই শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার হিসেবে দেখছিল। কিন্তু ফাইনালে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে পশ্চিম জার্মানি। শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে তারা বিশ্বকাপ জিতে নেয়।

ইতিহাসে সেই ম্যাচ আজও পরিচিত ‘মিরাকল অব বার্ন’ নামে। আর সেই কারণেই বলা হয়, ফুটবলে কোনো হারই শেষ কথা নয়। জার্মানির ৮-৩ গোলের পরাজয় থেকে বিশ্বকাপ জয়ের গল্প তারই সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

প্রাইমটিভি/এনজি