খেলাপি ঋণের চাপে দেশের ব্যাংকিং খাত

খেলাপি ঋণের চাপে দেশে । সংগৃহীত
দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুনে যেখানে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা, সেখানে ২০২৫ সালের জুন নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকায়। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু অর্থনৈতিক দুর্বলতার ফল নয়, বরং দীর্ঘদিনের অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব এবং দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রতিফলন।
ব্যাংকিং খাতের আলোচিত কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিপুল ঋণ সুবিধা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিয়ম ভেঙে একক গ্রাহক ঋণসীমার বহু গুণ বেশি ঋণ দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত কয়েকটি ব্যাংকে মূলধন সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।
অর্থপাচারের অভিযোগও সামনে এসেছে। বিভিন্ন ভুয়া ও বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়ে সেই অর্থ বিদেশে সরিয়ে নেয়ার অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া নতুন ঋণ দিয়ে পুরনো ঋণ সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকৃত আর্থিক চিত্র আড়াল করার অভিযোগও রয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট বাড়ায় প্রকৃত ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয় ঋণ পাচ্ছেন না। ফলে বিনিয়োগ কমছে, উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়ও। মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কঠোর নজরদারি, স্বচ্ছ তদন্ত এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ ছাড়া দেশের ব্যাংকিং খাতকে স্থিতিশীল করা কঠিন হবে।
এদিকে সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তাদের কষ্টার্জিত সঞ্চয় কতটা নিরাপদ।
প্রাইমটিভি/এনজি

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









