• সংরক্ষিত আসনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন তাসনিম জারা: সংসদে গেলে জনগণের ভোটেই যাবেন তিনি
• ফতুল্লায় গুদারাঘাটের ইজারা নিয়ে বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষঃ আহত ৫
•অনলাইন প্রতারণার নতুন ফাঁদ: ‘বুলসুক’ কোম্পানির বিরুদ্ধে কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ, নেপথ্যে তৌহিদ-ইমন গং!
•সিন্ডিকেটের হাতে জনগণকে জিম্মি হতে দেবে না সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
•গ্রাফিতিতে গুপ্ত লেখা’কে কেন্দ্র করে, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ
•স্থায়ীভাবে ইরান যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে এবার মার্কিন সেনাদের বিক্ষোভ
•বস্ত্র ও পাট খাতে নতুন প্রাণের সঞ্চার, সচল হতে যাচ্ছে বন্ধ মিলগুলোঃ বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী
• মনের মানুষ খুঁজতে কক্সবাজার গেলেন হিরো আলম
•পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি’র সাথে কানাডিয়ান হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎকার
•(ঢামেক) ছাত্রী কমন রুম থেকে এপ্রোন ও স্টেথোস্কোপসহ এক ভুয়া শিক্ষার্থীকে আটক
•এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিলো প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী
•মুক্তি পাওয়ার আগেই ২৫০ কোটি টাকা আয় করেছে ‘কিং’ সিনেমা
•এই সপ্তাহেই তৈরি হবে এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন : শিক্ষামন্ত্রী
•বাংলাদেশের ‘আলী’ জার্মানিতে পুরস্কার জিতল
•ইতালির রাষ্ট্রদূতের সাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক: দক্ষ কর্মী নিতে আগ্রহী ইতালি
• যৌন হয়রানি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে বিপাকে অভিনেত্রী হানসিকা মোতওয়ানি
•ঠাকুরগাঁওয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা
•মে দিবসে মঞ্চে আসছে আরণ্যকের ‘রাঢ়াঙ’
•অস্ত্র রপ্তানি উন্মুক্ত করল জাপান: যুদ্ধজাহাজ ও ক্ষেপণাস্ত্র যাচ্ছে ১৭ দেশে
•সবচেয়ে বেশি বয়সী মুরগির স্বীকৃতি পেলো ‘গার্টি’
• সংরক্ষিত আসনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন তাসনিম জারা: সংসদে গেলে জনগণের ভোটেই যাবেন তিনি
• ফতুল্লায় গুদারাঘাটের ইজারা নিয়ে বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষঃ আহত ৫
•অনলাইন প্রতারণার নতুন ফাঁদ: ‘বুলসুক’ কোম্পানির বিরুদ্ধে কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ, নেপথ্যে তৌহিদ-ইমন গং!
•সিন্ডিকেটের হাতে জনগণকে জিম্মি হতে দেবে না সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
•গ্রাফিতিতে গুপ্ত লেখা’কে কেন্দ্র করে, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ
•স্থায়ীভাবে ইরান যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে এবার মার্কিন সেনাদের বিক্ষোভ
•বস্ত্র ও পাট খাতে নতুন প্রাণের সঞ্চার, সচল হতে যাচ্ছে বন্ধ মিলগুলোঃ বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী
• মনের মানুষ খুঁজতে কক্সবাজার গেলেন হিরো আলম
•পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি’র সাথে কানাডিয়ান হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎকার
•(ঢামেক) ছাত্রী কমন রুম থেকে এপ্রোন ও স্টেথোস্কোপসহ এক ভুয়া শিক্ষার্থীকে আটক
•এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিলো প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী
•মুক্তি পাওয়ার আগেই ২৫০ কোটি টাকা আয় করেছে ‘কিং’ সিনেমা
•এই সপ্তাহেই তৈরি হবে এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন : শিক্ষামন্ত্রী
•বাংলাদেশের ‘আলী’ জার্মানিতে পুরস্কার জিতল
•ইতালির রাষ্ট্রদূতের সাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক: দক্ষ কর্মী নিতে আগ্রহী ইতালি
• যৌন হয়রানি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে বিপাকে অভিনেত্রী হানসিকা মোতওয়ানি
•ঠাকুরগাঁওয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা
•মে দিবসে মঞ্চে আসছে আরণ্যকের ‘রাঢ়াঙ’
•অস্ত্র রপ্তানি উন্মুক্ত করল জাপান: যুদ্ধজাহাজ ও ক্ষেপণাস্ত্র যাচ্ছে ১৭ দেশে
•সবচেয়ে বেশি বয়সী মুরগির স্বীকৃতি পেলো ‘গার্টি’


হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে যেতে চাইলে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অর্থ দিতে হবে এমন বার্তা পাঠাচ্ছে একদল প্রতারক। তারা নিজেদের ইরানি কর্তৃপক্ষ বলে পরিচয় দিচ্ছে। গ্রিক সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ম্যারিস্কস এই বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে।
সংস্থাটি জানিয়েছেন,অজ্ঞাত কিছু ব্যক্তি ইরানি কর্তৃপক্ষ সেজে কিছু শিপিং কোম্পানিতে বার্তা পাঠিয়েছেন।বার্তায় দাবি করা হয়েছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়েতের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি পরিশোধ করতে হবে।তবে বার্তার বিষয়ে অস্বিকার করেছে মারিস্কাস।
প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ‘এই বার্তাগুলো সম্পূর্ণ প্রতারণা।’ তারা আরও জানিয়েছে, এই বার্তাগুলো ইরানি কর্তৃপক্ষ পাঠায়নি।ম্যারিস্কস জানিয়েছে, শনিবার প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় গুলিবিদ্ধ হওয়া অন্তত একটি জাহাজ এই প্রতারণার শিকার বলে তারা মনে করছে।
এদিকে পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হচ্ছে। ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে অবরোধ জারি করেছে। এর ফলে এখন শত শত জাহাজ ও প্রায় ২০ হাজার নাবিক উপসাগরে আটকা পড়ে আছেন। তারা হরমুজ প্রণালি পার হতে পারছেন না।

যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত অবরোধ উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে ইরানের পতাকাবাহী একটি মালবাহী জাহাজ। ‘শুজা ২’ নামের এই জাহাজটির যাত্রা ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, জাহাজটি বন্দর আব্বাসের কাছে শহীদ রাজায়ী বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে বর্তমানে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে। এর গন্তব্য ভারতীয় বন্দর কান্ডলা। তবে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, তারা এখনো এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। ফলে ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। এদিকে সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের তথ্য বলছে, ‘শুজা ২’ বর্তমানে হরমুজ প্রণালির মধ্যেই অবস্থান করছে এবং ভারতের দিকেই অগ্রসর হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের রুট। এই পথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা সরাসরি প্রভাব ফেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। এর আগে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছিল, তারা হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের উপস্থিতি ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে। আর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের মধ্যেই এমন পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ‘শুজা ২’ জাহাজের এই যাত্রা এখন শুধু একটি সামুদ্রিক ঘটনা নয়, বরং আন্তর্জাতিক রাজনীতির নতুন এক বার্তা হিসেবেও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্রঃ আল-জাজিরা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা বা চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।তিনি বলেন আমরা আলোচনার টেবিলে বসতে যাচ্ছি। আমার বিশ্বাস, এই পর্যায়ে কেউ অন্য কোনো ধরনের খেলা খেলছে না। যদি আলোচনায় সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়, তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে ইরানের শীর্ষ নেতাদের সাথে সরাসরি সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুত। সোমবার (২০ এপ্রিল) ফক্স নিউজ ও নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া পৃথক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সন্তোষজনক এই চুক্তি সই হতে পারে।
ট্রাম্প জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। প্রতিনিধিদলে ট্রাম্পের আস্থাভাজন উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারও রয়েছেন। ট্রাম্পের মতে, আলোচনার মাধ্যমে ইরান তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি ত্যাগ করতে রাজি হয়েছে, যা ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক বিজয়।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চুক্তির বিষয়ে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করলেও তেহরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিনিধি দল পাঠানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তাদের ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারসহ বেশ কিছু কঠিন শর্ত দিয়ে রেখেছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন বিষয়টিকে চূড়ান্ত বললেও তেহরান এখনো নীরব ভূমিকা পালন করছে।
ফলে, পাকিস্তানের মাটিতে আজ এই যুগান্তকারী চুক্তি সই হবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রবল উত্তেজনা ও কৌতূহল বিরাজ করছে। পাশাপাশি ট্রাম্পের বিভিন্ন মন্তব্য তে মানুষ হাস্যরস উপভোগ করছে।

ইরানের সাথে দ্বিতীয় দফায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের লক্ষে একটি শক্তিশালী প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার বিশেষ প্রতিনিধি দলটি আজ সোমবার (২০ এপ্রিল, ২০২৬) সন্ধ্যা নাগাদ ইসলামাবাদে পৌঁছাবে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসন এবং একটি দীর্ঘমেয়াদী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোই এই সফরের মূল লক্ষ্য।
হোয়াইট হাউসের সূত্র অনুযায়ী, এবারের মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সাথে থাকছেন ট্রাম্পের বিশেষ উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। উল্লেখ্য, এই তিন সদস্যই এর আগে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার জন্য তোড়জোড় শুরু করলেও তেহরান এখনো এতে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। বরং ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে পরবর্তী কোনো দফার আলোচনার পরিকল্পনা তাদের নেই। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, আলোচনার আগে কয়েকটি শর্ত পূরণ করা আবশ্যক। যার মধ্যে অন্যতম শর্ত হলো ইরানের ওপর আরোপিত বর্তমান অর্থনৈতিক ও নৌ-অবরোধ বহাল থাকা অবস্থায় তারা কোনো সংলাপে বসবে না। এছাড়াও তেহরান জানিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তাদের ন্যায়সঙ্গত দাবিগুলো মেনে না নেবে, ততক্ষণ সমঝোতা সম্ভব নয়।
এর আগে ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে প্রথম দফা আলোচনার টানা ২১ ঘণ্টা চললেও তা কোনো চূড়ান্ত চুক্তি’তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। সেই আলোচনার পর দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব এখনো ব্যাপক।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার পোস্টে ইরানকে একটি ন্যায্য ও যৌক্তিক চুক্তির প্রস্তাব দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি এও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরান যদি এই সুযোগ হাতছাড়া করে, তবে তার ফল ভালো হবে না।
পাকিস্তান সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। মার্কিন প্রতিনিধিদল আজ সন্ধ্যায় পৌঁছানোর পর পাকিস্তান সরকার ইরানের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার টেবিলে আনার জন্য পুনরায় কূটনৈতিক তৎপরতা চালাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা নতুন করে অস্থির করে তুলেছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অচলাবস্থার জেরে তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সপ্তাহের শুরুতেই তেলের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে।
মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে লেনদেন শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম ৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮৭ ডলার ৯০ সেন্টে পৌঁছেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ ডলার ৬৪ সেন্টে। এর আগে, গত শুক্রবার ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলে তেলের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল এবং দাম প্রায় ৯ শতাংশ কমে যায়। তবে সেই পরিস্থিতি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি বন্দরে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিলে তেহরান তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি কার্গো জাহাজ জব্দ করেছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। এই ঘটনার জবাবে ইরানের সামরিক কমান্ড কঠোর পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যা অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
উল্লেখ্য, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ এখন অষ্টম সপ্তাহে গড়িয়েছে। দীর্ঘায়িত এই সংঘাতে তৈরি হয়েছে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকট। গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭০ ডলার, সেখানে এখন তা বেড়ে মাঝেমধ্যে ১১৯ ডলার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে এই অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

ইরানের হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। দেশটির জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের সাবেক কমান্ডার ইব্রাহিম আজিজি বলেছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কখনোই তারা ছেড়ে দেবেন না। বিবিসি তেহরানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এটি ইরানের মৌলিক অধিকার এবং এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া বা না দেওয়ার সিদ্ধান্তও তেহরানের হাতে থাকবে।
ইব্রাহিম আজিজি আরও জানান, বিষয়টি আইনের মাধ্যমে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে পার্লামেন্টে একটি বিল উত্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে পরিবেশ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনী এই আইন বাস্তবায়ন করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আজিজি হরমুজ প্রণালিকে শত্রু মোকাবিলার একটি কৌশলগত সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই প্রণালি ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।
বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এই জলপথে কোনো ধরনের উত্তেজনা দেখা দিলে তার প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানকে আন্তর্জাতিক আলোচনায় কৌশলগত সুবিধা দিচ্ছে। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ ইসলামি মনে করেন, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইরানের প্রধান অগ্রাধিকার হবে প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনর্গঠন এবং হরমুজ প্রণালি সেই চাপ প্রয়োগের অন্যতম প্রধান উপায় হিসেবে থাকবে।
তবে ইরানের এমন অবস্থানকে ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রতিবেশী দেশ প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আপাতত প্রশমনের কোনো ইঙ্গিত না দিয়ে বরং আরও জটিলতার দিকেই যাচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নতুন করে চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাত এখনো শেষ হয়নি এবং পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
রোববার আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে মিলে ইরানের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তাঁর ভাষায়, এটি সভ্যতার পক্ষে বর্বরতার বিরুদ্ধে এক গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রাম। নেতানিয়াহু আরও সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের সাফল্য অর্জিত হলেও যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। যেকোনো মুহূর্তে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলবে।
তিনি দাবি করেন, তাদের লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই অব্যাহত থাকবে এবং তারা বিশ্বজুড়ে স্বাধীনতাকামী মানুষের জন্য নতুন আশা ও আলোর দিশা বয়ে আনবে। এদিকে কূটনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন তৎপরতা। ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। তবে আলোচনায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবি, বারবার অবস্থান পরিবর্তন এবং পরস্পরবিরোধী বক্তব্য আলোচনার অগ্রগতিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে, আর কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা ঘিরে ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তেহরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত নতুন চুক্তিতে সম্মত না হয়, তবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর ওপর সামরিক হামলা চালানো হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, গত মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে গুলি চালিয়ে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে ইরান। তার অভিযোগ, ইরানি বাহিনী একটি ফরাসি জাহাজ এবং একটি ব্রিটিশ মালবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালায়। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প বলেন, ইরান সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণেই প্রণালিটি কার্যত অচল হয়ে রয়েছে। তার ভাষায়, ইরান অজান্তেই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত উদ্দেশ্য পূরণে সহায়তা করছে।
একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানকে একটি ন্যায়সঙ্গত ও যুক্তিসঙ্গত চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত সেই প্রস্তাব গ্রহণ করা উচিত। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী অত্যন্ত দ্রুত ও সহজেই ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করতে সক্ষম। শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইরান ব্যর্থ হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াকে নিজের সম্মানজনক দায়িত্ব হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন হুঁশিয়ারির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে যে কোনো সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পারস্য সাগরের হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে বড় ধরনের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান কর্তৃক এই নৌপথে কঠোর সামরিক নিয়ন্ত্রণের ঘোষণার পরপরই অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা ও রয়টার্স জানায়, কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়াই ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (IRGC) গানবোট থেকে একটি বাণিজ্যিক ট্যাংকার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা ইউকেএমটিও নিশ্চিত করেছে যে, এ ঘটনায় বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও পরিস্থিতি অত্যন্ত থমথমে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই আটটি ট্যাংকারের একটি বিশাল বহর একযোগে এই প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করছিল, যা সাম্প্রতিক সময়ে এমন পরিস্থতি’তে বিরল। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান এই রুটে পুনরায় নিয়ন্ত্রণ আরোপের ঘোষণা দেয়। এড় আগে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মুজতাবা খামেনি এক বার্তায় বলেছেন, পুরানো শত্রুকে নতুন করে তিক্ত পরাজয়ের স্বাদ দিতে আমাদের নৌবাহিনী প্রস্তুত।
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামান্য উত্তেজনাও বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধস নামাতে পারে।
অন্যদিকে, এই হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান নিয়ে ভালো খবর আসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এবং নতুন চুক্তির আহ্বান জানিয়েছিলেন। এমনকি ইরানের সাথে এখন সম্পর্ক ভালো বলেও দাবী করেন ট্রাম্প। কিন্তু খামেনির কঠোর বার্তার ও এই হামলার পর সেই সম্ভাবনা এখন ফিকে হয়ে গেসে।

“এই সপ্তাহে আবারও আলোচনায় বসতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান” আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ প্রকাশঃ ১৫ এপ্রিল ২০২৬ মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল এবং আমেরিকার যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে।যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও তবে ডোনাল ট্রাম্পের কথায় কিছুটা হলেও সংকট অবসানের আশা দেখা যাচ্ছে।তিনি দ্যা নিউ ইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছেন।আমরা বেশি সময় নিবো না আগামী দুই দিনের মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় বসতে পারি। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন,আগামী দুই দিনের মধ্যে ভালো কিছু ঘটবে।আমরা পাকিস্তানে যেতে আগ্রহী। এর আগেও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আমেরিকা এবং ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হয়।তবে সে আলোচনা তেমন ফলপ্রসূ হয় নাই। মঙ্গলবার দিনের শুরুতে ইরান জানিয়েছেন,তাদের সাথে পাকিস্তানের যোগাযোগ চলছে।তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পরবর্তী আলোচনার সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায় নাই ইরানের পক্ষ থেকে। সুত্রঃবিবিসি