ভয় দেখানো, চাপ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক জবরদস্তির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর দ্বিতীয় মেয়াদের শুল্কনীতিকে তীব্র সমালোচনা করেছেন বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ অ্যান ও. ক্রুগার। তিনি এই নীতিকে “গ্যাংস্টার রাজনীতি”র সঙ্গে তুলনা করেছেন বলে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ককে শুধু বাণিজ্যনীতি হিসেবে নয়, বরং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের ওপর উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করে পরে তা কমানোর বিনিময়ে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ছাড় ও বিনিয়োগ আদায়ের কৌশল নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশলের প্রভাব ইতোমধ্যে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো মিত্র দেশগুলোর ওপরও পড়েছে। জাপানের গাড়ি রপ্তানির ওপর শুল্ক বাড়িয়ে চাপ সৃষ্টি করা হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রে শত শত বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এবং কৃষিপণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতির পর সেই শুল্ক কমিয়ে আনা হয়। একই ধরনের কৌশল দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয়েছে বলে দাবি বিশ্লেষকদের।

ডোনাল্ড ট্রাম্প

তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, এসব বিনিয়োগ আদৌ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক কি না। তাদের মতে, বাজারের স্বাভাবিক প্রবাহের বদলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিদেশি পুঁজি নির্দিষ্ট খাতে প্রবাহিত করা হচ্ছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকটি শুল্ক সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে আদালতের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগও নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবুও প্রশাসন নতুন কৌশলে শুল্কনীতি কার্যকর রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, এই নীতি কেবল বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে না, বরং মুক্তবাজার অর্থনীতির ভিত্তিও দুর্বল করে দিচ্ছে। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যদি প্রতিযোগিতার জায়গা রাজনৈতিক চাপ ও কৌশলগত দরকষাকষি দখল করে নেয়, তবে এর প্রভাব পড়বে পুরো বিশ্ব অর্থনীতির ওপর।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে, ট্রাম্পের এই শুল্কযুদ্ধ কি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করবে, নাকি বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন সংকটের জন্ম দেবে, সেই বিতর্ক এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্যতম আলোচিত বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে।

প্রাইমটিভি/এনজি