রাজধানীর কালশীর বাউনিয়াবাদ বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো শত শত মানুষের ঈদ কেটেছে খোলা আকাশের নিচে। ঈদের একদিন আগে ঘটে যাওয়া এই অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যায় তাদের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং দীর্ঘদিনের সঞ্চয়। ফলে উৎসবের আনন্দের বদলে তাদের জীবনজুড়ে নেমে আসে অনিশ্চয়তা ও চরম দুর্ভোগ।

ক্ষতিগ্রস্তদের একজন ১০ বছর বয়সী আশা মনি। এক বছর আগে ওপেন হার্ট সার্জারি হওয়া এই শিশুটি পরিবারের সঙ্গে বাউনিয়াবাদ বস্তিতেই বসবাস করত। আগুনে তাদের ঘর পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও নষ্ট হয়ে যায়। এখন পরিবারের সঙ্গে রাস্তার পাশের খোলা জায়গাতেই দিন কাটছে তার। ঈদের দিনটিও কাটাতে হয়েছে একইভাবে, যা তার কাছে দুঃস্বপ্নের মতো বলে জানায় সে।

স্থানীয়দের দাবি, ঈদের আগের দিনের এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত এক হাজার দুইশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেক পরিবার ধ্বংসস্তূপের পাশে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। ঈদের আনন্দের পরিবর্তে তাদের সময় কেটেছে খাবার, আশ্রয় ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগে।

বস্তিবাসীরা জানান, ২০১৯ সালের অগ্নিকাণ্ডের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই আবারও আগুনে তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। বারবার এমন দুর্যোগ তাদের জীবন ও জীবিকাকে গভীর সংকটে ফেলছে।

ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করে বলেন, নিজেদের সামর্থ্যে নতুন করে ঘর তৈরি বা স্বাভাবিক জীবনে ফেরা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব। তাই দ্রুত পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তার জন্য সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সব হারানো এই মানুষগুলোর একমাত্র প্রত্যাশা দ্রুত একটি নিরাপদ আশ্রয় এবং নতুন করে জীবন শুরু করার সুযোগ। তারা আশা করছেন, সরকারি সহায়তা ও সামাজিক সহযোগিতায় পুড়ে যাওয়া স্বপ্নগুলো আবারও পুনর্গঠিত হবে।

প্রাইমটিভি/এনজি