দেশে গত মে মাসে ৬১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬২২ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬৫২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

শনিবার (১৩ জুন) সংগঠনটির মহাসচিব স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, একই সময়ে ২২১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৩১ জন নিহত এবং ২১৯ জন আহত হয়েছেন। মোট সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেল-সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনার হার উল্লেখযোগ্য, যা প্রাণহানি ও আহতের বড় অংশের জন্য দায়ী।

ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ১৮০টি দুর্ঘটনায় ১৮৫ জন নিহত এবং ৫৫৮ জন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে। সেখানে ২৭টি দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত ও ৬৭ জন আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের চিত্র

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দুর্ঘটনায় জড়িত ৯৭৫টি যানবাহনের মধ্যে—

  • মোটরসাইকেল: ২৮.৬৯ শতাংশ

  • ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও লরি: ২৩.১০ শতাংশ

  • বাস: ১৪.৪৫ শতাংশ

  • ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক: ১২.৯৭ শতাংশ

এ ছাড়া সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস এবং অন্যান্য ধীরগতির যানবাহনও বিভিন্ন দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল।

কী ধরনের দুর্ঘটনা বেশি ঘটেছে?

সংগঠনটির বিশ্লেষণে দেখা যায়—

  • ৪২.০৮ শতাংশ দুর্ঘটনা মুখোমুখি সংঘর্ষে

  • ৩২.৩০ শতাংশ গাড়ির চাপা বা ধাক্কায়

  • ১৮.৯২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়ার ঘটনায়

  • ৫.৫৪ শতাংশ অন্যান্য কারণে

  • ০.৩২ শতাংশ ওড়না চাকায় পেঁচিয়ে

  • ০.৮১ শতাংশ ট্রেন ও যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটেছে

মহাসড়কেই সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা

সড়কের ধরন অনুযায়ী, মোট দুর্ঘটনার—

  • ৪৪.৬৯ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে

  • ৩০.৬৬ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে

  • ১৮.১০ শতাংশ ফিডার রোডে

  • ৫.২২ শতাংশ মহানগর এলাকায়

  • ০.৮১ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়েছে

দুর্ঘটনার কারণ ও সুপারিশ

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মতে, মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহনের অবাধ চলাচল, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, সড়কের অবকাঠামোগত ত্রুটি, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন এবং অতিরিক্ত গতি সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।

দুর্ঘটনা কমাতে সংগঠনটি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু, চালকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি, সড়ক নিরাপত্তা অবকাঠামো উন্নয়ন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণ এবং কঠোরভাবে ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে।

প্রাইমটিভি/কেআর