চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত করসহ বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মোট আয় হয়েছে ৮ কোটি ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যয় হয়েছে ২৫৪ কোটি ১৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।

সোমবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদে নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকের প্রশ্নোত্তর পর্বে তথ্যটি উপস্থাপন করা হয়।

মন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে বিটিভির মোট আয়ের মধ্যে বিজ্ঞাপন শাখা থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে ৫ কোটি ৭ লাখ ৯ হাজার ৪১৭ টাকা।

সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ অর্থবছরেও বিটিভির আয় ও ব্যয়ের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান ছিল। ২০২০-২১ অর্থবছরে বিটিভির আয় ছিল ৩৪ কোটি ৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা, ব্যয় ২৮০ কোটি ৮১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে আয় ৪০ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা হলেও ব্যয় ছিল ২৮৫ কোটি ৪৭ লাখ ২৭ হাজার টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আয় ৩০ কোটি ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা এবং ব্যয় ৩৭০ কোটি ৬১ লাখ ৫১ হাজার টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আয় হয় ৪৪ কোটি ২১ লাখ ২২ হাজার টাকা, বিপরীতে ব্যয় ছিল ২৯৮ কোটি ৫৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয় ছিল ২৭ কোটি ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ব্যয় ৩০৭ কোটি ৯২ লাখ ২২ হাজার টাকা।

এদিকে অপপ্রচার, কুৎসা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় সরকারের ‘বাংলাফ্যাক্ট’ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বাংলাফ্যাক্ট ৭৮৩টি ফ্যাক্টচেক, বিশ্লেষণধর্মী ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং ভিডিও বা রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রকাশিত হয়েছে ২২৯টি।

মন্ত্রী আরও জানান, সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের আদলে অপতথ্য প্রচারকারী ১৬টি ওয়েবসাইট চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩০০টির বেশি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১৯৯টি এক্স অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলো বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রচার করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে তথ্য অধিদপ্তরের ফ্যাক্টচেকিং কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে সংসদকে জানান জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা ৫৫, যার মধ্যে ৩৯টি সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এছাড়া সারা দেশে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ১ হাজার ৪৩৬ এবং নিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টালের সংখ্যা ৪৭৪।

অন্যদিকে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সংসদে জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের ৬৪টি পণ্য ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৪৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৩টি বর্তমানে অলাভজনক।

প্রাইমটিভি/এনজি