ফেনীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা মামলার এক আসামিকে ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক করায় তীব্র বিতর্ক ও গণ-পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। নবঘোষিত পৌর ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের ৮ সদস্যের কমিটির মধ্যে সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি ছাড়া বাকি ৬ জনই একযোগে পদত্যাগ করেছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল জাহিদ হোসেন বাবলু ও হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারী স্বাক্ষরিত ফেনী পৌর ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে গাজী এনামুল হক সুজনকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়।

২০১৭ সালে ফেনীর মহিপালে বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুজন অন্যান্য ২৮ জন আসামির মধ্যে অন্যতম। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুনরুজ্জীবিত হওয়া এই মামলায় তিনি ২৫ নম্বর আসামি। দলীয় নেত্রীর ওপর হামলার মামলার আসামির অধীনে রাজনীতি করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে শনিবার (২’মে) কমিটির বাকি ৬ নেতা পদত্যাগপত্র জমা দেন।

অভিযুক্ত এনামুল হক সুজন একে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করলেও পদত্যাগকারী নেতারা বলছেন, নেত্রীর ওপর হামলাকারীর সাথে তারা একই কমিটিতে থাকবেন না। পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু সুজনকে পরীক্ষিত কর্মী বলে দাবি করলেও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারী জানান, মামলার বিষয়টি তারা আগে অবগত ছিলেন না। বিষয়টি তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

বর্তমানে পিবিআই (PBI) মামলাটি তদন্ত করছে। তদন্তাধীন মামলার আসামিকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ায় সাধারণ কর্মীদের মাঝেও উত্তেজনা বিরাজ করছে।