পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এখন টানটান উত্তেজনা। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, বিজেপি ২০৬টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে এই জয়কে গেরুয়া শিবিরের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে ও পরে মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা চললেও অমিত শাহর দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একজন বাঙালি মুখই হবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।

শুভেন্দু অধিকারী এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং বর্তমানে কট্টর বিরোধী এই নেতা নন্দীগ্রামে জয়ের পর থেকেই রাজ্য বিজেপির তুরুপের তাস। তার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও তৃণমূলের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তাকে বাকিদের চেয়ে এগিয়ে রাখছে। অন্যদিকে, শমিক ভট্টাচার্য ও সুকান্ত মজুমদারের মতো নেতাদের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং আরএসএস-এর সঙ্গে সুসম্পর্ক তাদের বড় শক্তি। বিশেষ করে সুকান্ত মজুমদারের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও মার্জিত আচরণ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বেশ পছন্দের।

পুরানো সৈনিক হিসেবে দিলীপ ঘোষের প্রভাব অস্বীকার করার উপায় নেই। মেদিনীপুরের মাটি থেকে উঠে আসা এই নেতার জনপ্রিয়তা কর্মীদের কাছে বড় প্রেরণা। পাশাপাশি, স্বপন দাসগুপ্তের বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা এবং রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো পরিচিত মুখদের নামও আলোচনায় রয়েছে।

রাজ্য শাসনের চাবিকাঠি কার হাতে যাবে, তা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। বিজেপির কেন্দ্রীয় সংসদীয় বোর্ড সম্ভবত সব দিক বিবেচনা করে এমন একজনকে বেছে নেবে, যিনি একাধারে দক্ষ প্রশাসক এবং সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য।

বিজেপির কেন্দ্রীয় সংসদীয় বোর্ড খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। তবে ১০ মে রবীন্দ্রজয়ন্তীর আগেই নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিতে পারেন বলে জোর আলোচনা চলছে। রাজ্যের রাজনীতিতে এখন বড় পরিবর্তন বা 'আসল পরিবর্তন'-এর অপেক্ষা।