"আপনাদের নাম ছিল জাতীয়তাবাদী দল, এখন মানুষ বলে চাঁদাবাজি দল"- জামায়াতের আমির

জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান | ছবি: সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকারের ‘ধোঁকাবাজি ও প্রতারণার’ বিরুদ্ধে জামায়াতের আন্দোলন সংসদ ও রাজপথে একযোগে চলবে।
শনিবার (১৬ মে) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত ১১–দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “যে ১৬টি অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন না হলে বাংলাদেশের সুশাসন নিশ্চিত করা অসম্ভব, সেগুলো সরকার ফেলে দিয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন না হলে আমাদের আন্দোলন সংসদেও চলবে, একই সঙ্গে রাজপথেও চলবে।”
শফিকুর রহমান বলেন, ত্যাগ ও কোরবানির মধ্য দিয়ে দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে এবং তরুণদের নেতৃত্বে গণআন্দোলনের মাধ্যমে ‘ফ্যাসিবাদী শাসনের’ অবসান হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান ক্ষমতাসীনরা সেই আন্দোলনের সুফল ভোগ করছেন।
গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করাকে জনগণকে অপমান করার শামিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, “জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে অতীতে কেউ রেহাই পায়নি, আপনারাও পাবেন না। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতেই হবে।”
বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, “দেশে রাজনৈতিক দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। একসময় আপনাদের নাম ছিল জাতীয়তাবাদী দল, এখন মানুষ বলে চাঁদাবাজি দল।”
সংসদে কথা বলতে না দিলে রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “যেখানে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে কথা বলতে হয়, সেখানে যদি কথা বলতে না দেওয়া হয়, তাহলে আমরা জনগণের পার্লামেন্টে চলে আসব।”
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে, তবে শুধু অতীত নিয়েই পড়ে থাকলে জাতি এগোতে পারবে না।
সরকারের পদ্মা ব্যারেজ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এটি যেন শুধু ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বাস্তবায়নও করতে হবে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তিস্তা ও আশপাশের নদী তীরবর্তী আড়াই কোটি মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ‘রক্তচক্ষু’কে ভয় পাওয়া যাবে না।
প্রতিবেশী দেশ ভারত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা চাই, আপনারা নিজেদের দেশে শান্তিতে থাকুন। তবে আমাদের শান্তি নিয়ে টান দিলে কারও শান্তি থাকবে না।”
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এবং সঞ্চালনা করেন ইমাজ উদ্দিন মণ্ডল।
এছাড়া বক্তব্য দেন অলি আহমদ, মুজিবুর রহমান, আনোয়ারুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, সিরাজুল হক, আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, জালাল উদ্দিন আহমদ এবং সারজিস আলম।
প্রাইমটিভি/কেআর

জেলা প্রতিনিধি
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









