ইরান যুদ্ধের প্রভাব এখন সরাসরি পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও বাড়ানো হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম।

গত শনিবার রাতে সরকার নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যে তেল আমদানি এবং ভর্তুকির চাপ সামাল দিতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে প্রশ্ন উঠছে, দাম বাড়লেও কি কমবে জ্বালানি সংকট? দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে এখনো দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ সারি, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ। সরকার বলছে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংকটের শুরুতেই কার্যকর পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি এতটা জটিল হতো না। ফুয়েল পাস ব্যবস্থা, কিউআর কোড কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের পর দোকানপাট বন্ধের মতো সিদ্ধান্তগুলো এসেছে দেরিতে। এদিকে, ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বেড়ে ১১৫ টাকা হওয়ায় সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে পরিবহন ও কৃষি খাতে। কারণ দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেলনির্ভর। ফলে বাসভাড়া থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের দাম সবকিছুতেই বাড়তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বমুখী বাজারে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। নতুন করে তেলের দাম বৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু দাম বাড়ানোই সমাধান নয়। জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করা, মজুতদারি নিয়ন্ত্রণ এবং ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা জরুরি। সঙ্গে প্রয়োজন কঠোর বাজার তদারকি, যাতে তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে না বাড়ে। এখন দেখার বিষয়, সরকার কত দ্রুত এই সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে, আর সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কতটা কমানো সম্ভব হয়।