বেকারত্বের দায় কার, সনদধারী শিক্ষার নাকি বাস্তবমুখী স্কিলের অভাব?

ছবিঃসংগৃহীত
বাংলাদেশে প্রতি বছর লাখ লাখ অনার্স মাস্টার্স সম্পন্ন করে বের হচ্ছে।দেশে প্রতি বছর শিক্ষিত জনশক্তি বাড়লেও কর্মসংস্থানে তারা পিছিয়ে যাচ্ছে।ডিগ্রিধারীদের বড় একটা অংশ চাকরিহীন থেকে যাচ্ছে।
সম্প্রতিক শ্রমশক্তির জরিপ অনুযায়ী,বাংলাদেশে বাংলাদেশে মোট বেকারের সংখ্যা প্রায় ২৬.২৪ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৮.৮৫ লাখ বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েট, অর্থাৎ মোট বেকারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই উচ্চশিক্ষিত।
বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদধারীদের বেকারত্বের হার প্রায় ১৩.৫৪ শতাংশ, যা সব শিক্ষার স্তরের মধ্যে সর্বাধিক।
বিশেষজ্ঞদের মতে,দেশে শিক্ষার ব্যবস্থা এখনও অনেকটা সনদ নির্ভর ও তাত্ত্বিক।ফলে ভালো রেজাল্ট নিয়েও শিক্ষার্থীরা চাকরির বাজারে পিছিয়ে যাচ্ছে। আবার দেশে সনদধারী শিক্ষার্থী বাড়লেও তাদের মধ্যে বেসিক স্কিলের অভাব প্রকটভাবে দেখা যাচ্ছে।
চাকরিদাতাদের অভিযোগ চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা ফল ভালো করলেও বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা—যেমন কমিউনিকেশন স্কিল, ইংরেজি দক্ষতা, প্রযুক্তি ব্যবহার, সমস্যা সমাধান ক্ষমতা ও অভিজ্ঞতায় পিছিয়ে থাকেন।
অন্যদিকে চাকরির বাজারে এখন আইটি, ডিজিটাল মার্কেটিং, কারিগরি খাত, অটোমেশন, ইঞ্জিনিয়ারিং সাপোর্ট, ভাষাজ্ঞান ও উদ্যোক্তা দক্ষতার চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু অনেক তরুণ এখনো শুধুমাত্র সরকারি চাকরির ওপর নির্ভরশীল থাকায় বিকল্প খাতে প্রস্তুতি নিতে পারেন না।
আইটি ফার্ম QUICKSOFT এর ডিরেক্টর জাহিদ ইসলাম বলেছেন,আমরা অনেক চাকরি প্রত্যাশী পাই যারা কোনো কোম্পানিতে কাজ করতে যে বেসিক স্কিল লাগে সেটাও জানে না।শিক্ষার্থীদের বড় একটা অংশ এখনও কম্পিউটার সফট এপ্লিকেশন পরিচালনা করতে পারে না।গ্রাফিক্স ডিজাইন ,কনটেন্ট রাইটিং এবং ভিডিও এডিটিং এর মতো দক্ষতা তাদের মধ্যে নেই।অথচ চাকরির বাজারে এসব স্কিলের চাহিদা বেশি।তিনি বলেন আমরা তো লোক খুচ্ছি কিন্তু স্কিলড লোক পাচ্ছি না।তিনি আরও বলেন,চাকরির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে,এই পরিস্থিতি বদলাতে হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি স্কিল উন্নয়নে মনোযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ, প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং, আইটি শিক্ষা ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন বাড়ানো জরুরি।
অন্যথায় বেকার সংকট আরও প্রকট হবে বলে তারা মত দিয়েছেন।

Mehedi Hasan
© 2026 Prime Tv. All rights reserved.









