মৃত্যুভয় নিয়েই কাফনের কাপড়ে কথা বললেন কাওয়ালী শিল্পী

ছবিঃপ্রতিনিধি
চট্টগ্রামের বায়েজিদ অক্সিজেন এলাকার কাওয়ালী শিল্পী মো. শাহীন রেজা অভিযোগ করেছেন, তার ব্যবসা সম্প্রসারণের পর থেকে আওয়ামী লীগের একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছে। ২০২১ সালে তিনি একটি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চক্রটি তার বাড়িতে গিয়ে দখল, লুটপাট ও হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মেডিকেলে ভর্তি হন। পরবর্তীতে তিনি ওই চক্রের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগ ও মামলা দায়ের করলে থেমে নেই চক্রটির চাঁদাবাজি।
সম্প্রতি আবারও চাঁদা না পেয়ে চক্রটি তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মেসেঞ্জারে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। সেখানে বলা হয়, ‘কাফনের কাপড় কিনে রাখ, যা খাওয়ার আছে খেয়ে নাও।’ একই দিন রাত নয়টার দিকে ভয়েস মেসেজে আবারও হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘আগামী ৭ দিনের মধ্যে তোকে মেরে ফেলবো এবং তোর স্ত্রী-সন্তানদেরও হত্যা করবো।’
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মো. শাহীন রেজা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার বড় ছেলে সায়হান রেজা রবিউল, ছোট ছেলে শাহাদাত রেজা হোসাইন এবং মো. মিনহাজুল ইসলাম।
গত ২১ এপ্রিল আনুমানিক বিকেল ৪টার দিকে মামলার ১ নম্বর আসামি মোহাম্মদ আজিম একটি ফেসবুক আইডি থেকে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে হুমকি দেয়া হয়। ভুক্তভোগী মো. শাহীন রেজা জানান, তিনি গরুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হওয়ার পর থেকেই একটি চক্র নিয়মিত তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চক্রটি বায়েজিদ এলাকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে তিনি দাবি করেন। তবে তিনি কখনোই তাদের এই অবৈধ দাবি মেনে নেননি। ২০২১ সালে তার ওপরে হামলার ঘটনায় এখনও চিহ্ন রয়েছে তার শরীরে। চাঁদার চাপ ও নির্যাতনের কারণে একপর্যায়ে তার ব্যবসাও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন নম্বর ব্যবহার করে, এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়েও তাকে ও তার পরিবারকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ২৫ এপ্রিল তিনি একটি মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। এছাড়া ২০২৩ সালের ৭, ১৩ এপ্রিল এবং ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল বায়েজিদ বোস্তামী থানায় তিনি তিনটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
সর্বশেষ গত ২২ এপ্রিল তার ফেসবুকে ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে হুমকি পাওয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে পুলিশ অভিযোগ নিতে গড়িমসি করলে পরে বাধ্য হয়ে ওইদিনই চট্টগ্রাম মহানগর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরও একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি, যার জিডি নম্বর ৪৯/২০২৬। উক্ত জিডিতে মোট ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন, চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ আজিম (৪৫), বায়েজিদের তৈয়বিয়া হাউজিং সোসাইটির মো. তাজুল ইসলাম (৫৫), তার ছেলে তানিন (২৫), বায়েজিদের পূর্ব শহীদ নগরের আবদুল কাদের সরদার (৪৫), অক্সিজেন আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল নবী ওরফে লেদু (৫২) এবং পূর্ব শহীদ নগরের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন সিন্টু (৩৫)। এরা সবাই নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
ভুক্তভোগী জানান, তিনি ও তার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। একই সঙ্গে প্রতিনিয়ত হুমকি ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

মেহেদী হাসান
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।





