• সংরক্ষিত আসনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন তাসনিম জারা: সংসদে গেলে জনগণের ভোটেই যাবেন তিনি
• ফতুল্লায় গুদারাঘাটের ইজারা নিয়ে বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষঃ আহত ৫
•অনলাইন প্রতারণার নতুন ফাঁদ: ‘বুলসুক’ কোম্পানির বিরুদ্ধে কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ, নেপথ্যে তৌহিদ-ইমন গং!
•সিন্ডিকেটের হাতে জনগণকে জিম্মি হতে দেবে না সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
•গ্রাফিতিতে গুপ্ত লেখা’কে কেন্দ্র করে, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ
•স্থায়ীভাবে ইরান যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে এবার মার্কিন সেনাদের বিক্ষোভ
•বস্ত্র ও পাট খাতে নতুন প্রাণের সঞ্চার, সচল হতে যাচ্ছে বন্ধ মিলগুলোঃ বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী
• মনের মানুষ খুঁজতে কক্সবাজার গেলেন হিরো আলম
•পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি’র সাথে কানাডিয়ান হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎকার
•(ঢামেক) ছাত্রী কমন রুম থেকে এপ্রোন ও স্টেথোস্কোপসহ এক ভুয়া শিক্ষার্থীকে আটক
•এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিলো প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী
•মুক্তি পাওয়ার আগেই ২৫০ কোটি টাকা আয় করেছে ‘কিং’ সিনেমা
•এই সপ্তাহেই তৈরি হবে এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন : শিক্ষামন্ত্রী
•বাংলাদেশের ‘আলী’ জার্মানিতে পুরস্কার জিতল
•ইতালির রাষ্ট্রদূতের সাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক: দক্ষ কর্মী নিতে আগ্রহী ইতালি
• যৌন হয়রানি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে বিপাকে অভিনেত্রী হানসিকা মোতওয়ানি
•ঠাকুরগাঁওয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা
•মে দিবসে মঞ্চে আসছে আরণ্যকের ‘রাঢ়াঙ’
•অস্ত্র রপ্তানি উন্মুক্ত করল জাপান: যুদ্ধজাহাজ ও ক্ষেপণাস্ত্র যাচ্ছে ১৭ দেশে
•সবচেয়ে বেশি বয়সী মুরগির স্বীকৃতি পেলো ‘গার্টি’
• সংরক্ষিত আসনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন তাসনিম জারা: সংসদে গেলে জনগণের ভোটেই যাবেন তিনি
• ফতুল্লায় গুদারাঘাটের ইজারা নিয়ে বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষঃ আহত ৫
•অনলাইন প্রতারণার নতুন ফাঁদ: ‘বুলসুক’ কোম্পানির বিরুদ্ধে কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ, নেপথ্যে তৌহিদ-ইমন গং!
•সিন্ডিকেটের হাতে জনগণকে জিম্মি হতে দেবে না সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
•গ্রাফিতিতে গুপ্ত লেখা’কে কেন্দ্র করে, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ
•স্থায়ীভাবে ইরান যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে এবার মার্কিন সেনাদের বিক্ষোভ
•বস্ত্র ও পাট খাতে নতুন প্রাণের সঞ্চার, সচল হতে যাচ্ছে বন্ধ মিলগুলোঃ বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী
• মনের মানুষ খুঁজতে কক্সবাজার গেলেন হিরো আলম
•পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি’র সাথে কানাডিয়ান হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎকার
•(ঢামেক) ছাত্রী কমন রুম থেকে এপ্রোন ও স্টেথোস্কোপসহ এক ভুয়া শিক্ষার্থীকে আটক
•এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিলো প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী
•মুক্তি পাওয়ার আগেই ২৫০ কোটি টাকা আয় করেছে ‘কিং’ সিনেমা
•এই সপ্তাহেই তৈরি হবে এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন : শিক্ষামন্ত্রী
•বাংলাদেশের ‘আলী’ জার্মানিতে পুরস্কার জিতল
•ইতালির রাষ্ট্রদূতের সাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক: দক্ষ কর্মী নিতে আগ্রহী ইতালি
• যৌন হয়রানি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে বিপাকে অভিনেত্রী হানসিকা মোতওয়ানি
•ঠাকুরগাঁওয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা
•মে দিবসে মঞ্চে আসছে আরণ্যকের ‘রাঢ়াঙ’
•অস্ত্র রপ্তানি উন্মুক্ত করল জাপান: যুদ্ধজাহাজ ও ক্ষেপণাস্ত্র যাচ্ছে ১৭ দেশে
•সবচেয়ে বেশি বয়সী মুরগির স্বীকৃতি পেলো ‘গার্টি’


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘তিক্ত পরাজয়ের’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি। রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বার্তায় তিনি বলেন, যে কোনো আগ্রাসনের জবাবে প্রস্তুত রয়েছে ইরানের নৌবাহিনী। তাঁর ভাষায়, শত্রুদের জন্য অপেক্ষা করছে নতুন ও তিক্ত পরাজয়। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যখন উত্তেজনা বাড়ছে, তখনই এ ধরনের কড়া বার্তা দিলেন খামেনি।
এদিকে, একই প্রণালিতে অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার খবর পাওয়া গেছে।এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে বিশ্ব শক্তিগুলো। তবে উত্তেজনা প্রশমনে এখনো কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। এই অবস্থায়, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে নতুন মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও ইরান কিছুটা কৌশল বা চালাকি করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কঠোর এবং কোনো ধরনের চাপ বা ব্ল্যাকমেইল সহ্য করা হবে না।
আজ শনিবার দেওয়া এক বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আমাদের আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে। তবে তারা কিছুটা চালাকি দেখাচ্ছে, যা তারা গত ৪৭ বছর ধরেই করে আসছে। তিনি আরও বলেন, আলোচনার পরিবেশ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং কোনোভাবেই নিজেদের অবস্থান থেকে পিছপা হবে না। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে, এমন ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, তারা আবারও এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা তারা অতীতেও করেছে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রকে কোনোভাবেই চাপের মুখে আনা যাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং অনেক মানুষ তাদের কারণে প্রাণ হারিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরাও এর শিকার হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিনের শেষ নাগাদ জানানো হতে পারে। তবে এখনই যুক্তরাষ্ট্রের নীতি স্পষ্ট, আলোচনার দরজা খোলা থাকলেও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
সূত্র: আল–জাজিরা

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আন্তর্জাতিক মহলে ইসরায়েলের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ইসরায়েল নিরাপত্তাকে একটি অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে মূলত নিজেদের ভূখণ্ড সম্প্রসারণের চেষ্টা চালাচ্ছে। শনিবার তুরস্কের বিখ্যাত আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
ফিদান দাবি করেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন বর্তমান ইসরায়েলি সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করছে। তিনি বলেন, ইসরায়েলের বর্তমান কার্যক্রম প্রকৃতপক্ষে কোনো আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ নয়, বরং এটি তাদের দখলদারিত্ব ও ভূখণ্ড বাড়ানোর একটি সুপরিকল্পিত কৌশলের অংশ। তার মতে, ইসরায়েল নিরাপত্তাকে একটি ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, যার আড়ালে তারা ফিলিস্তিনের ভূমি গ্রাস করছে।
তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্বজুড়ে এমন একটি ধারণা প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চলছে যে ইসরায়েল কেবল নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় লড়াই করছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। গাজা উপত্যকা, পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেম ছাড়িয়ে এখন লেবানন ও সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েল তাদের নিয়ন্ত্রণ ও সামরিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে হাকান ফিদান মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে বলেন, অঞ্চলটিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে হলে প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। কোনো জাতির ওপর শক্তি প্রয়োগ বা জবরদস্তিমূলক দখলদারিত্বের মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি অর্জন করা কখনোই সম্ভব নয়। তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের এই সম্প্রসারণবাদী নীতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং ইসরায়েল-তুরস্কের মধ্যকার কূটনৈতিক টানাপোড়েনকে আরও উসকে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের বর্তমান অবস্থাকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করে দ্রুত একটি চুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন। চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর নৌ অবরোধ বজায় রাখার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের মতে, এই আলোচনার মূল লক্ষ্য ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করা হতে পারে এবং এ লক্ষ্যে দুই দেশ একত্রে কাজ করছে। ট্রাম্প আরও জানান, পারমাণবিক স্থাপনার পরিকল্পনা বন্ধ করে তা যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তর করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর কোনো প্রশ্নই আসে না। ইরান বরাবরই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে আসছে।
এছাড়াও চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ আরও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ট্রাম্প সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন। এমনকি চুক্তি সফল হলে তিনি পাকিস্তানের ইসলামাবাদ সফরেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে দুই দেশের দুই মেরুতে অনড় অবস্থানের কারণে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে কূটনৈতিক মহলে কার্যত কেউ আশাবাদী নন।

আগামী বুধবার, ২২ এপ্রিলের মধ্যে কোনো চুক্তি না হলে ইরানে আবারও বোমা হামলা শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় শুক্রবার, এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি হয়তো যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়াবেন না। একই সঙ্গে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধও বহাল থাকবে। তার ভাষায়, একদিকে অবরোধ চলবে, অন্যদিকে পরিস্থিতি অনুকূলে না এলে আবারও হামলা শুরু করতে হতে পারে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চলছে, যার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বুধবার। এই সময়ের মধ্যেই সমঝোতায় পৌঁছাতে পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে দুই দেশ। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহেই পাকিস্তানে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসতে পারেন।
এর মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে। ইরান জানিয়েছে, শর্তসাপেক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে আবারও এটি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি ইরানের অনুমতির ওপর নির্ভর করবে।
এদিকে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, বর্তমান যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই প্রণালিটি খোলা রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে, সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আবারও বাড়ছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ মুহূর্তের আলোচনায় দুই দেশ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে কিনা, নাকি আবারও সংঘাতের পথে এগোয় পরিস্থিতি।

ইরানের এক ঘোষণায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে মিলেছে স্বস্তির ইঙ্গিত। যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ রাখার কথা জানিয়েছে ইরান।
এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি নেমে এসেছে ৮৮ ডলারে, যা একদিন আগেও ছিল ৯৮ ডলারের ওপরে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথ সচল থাকাটা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময় পর্যন্ত সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকবে। এই ঘোষণার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারেও। যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক বেড়েছে ১ দশমিক ২ শতাংশ, ইউরোপের বিভিন্ন শেয়ারবাজারেও দেখা গেছে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। তবে পুরো পরিস্থিতি এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয় বলে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকরা।
আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থাগুলো বলছে, সমুদ্রপথে মাইন বিস্ফোরণের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি। ফলে জাহাজ চলাচল কতটা নিরাপদ, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়। ফলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়ে দাম একসময় ১১৯ ডলার পর্যন্ত উঠে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে কয়েক মাস। তাই আপাতত তেলের দাম কমলেও, ভোক্তা পর্যায়ে এর প্রভাব দ্রুত পড়বে এমন আশা কম। সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার এই ঘোষণা বিশ্ববাজারে স্বস্তি আনলেও, অনিশ্চয়তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং স্বাভাবিক নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন। বৃহস্পতিবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং-ই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি’কে আহ্বান জানিয়ে এই গুরুত্বারোপ করেন। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং-ই আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তাকে অবশ্যই সবার সম্মান জানাতে হবে।
একই সঙ্গে এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই প্রণালি উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে বিশ্বজুড়ে একটি সর্বসম্মত আগ্রহ রয়েছে এবং চীন সবসময়ই যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পক্ষপাতি করে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে ওয়াশিংটনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ উপেক্ষা করেই ইরানের আরও একটি বিশাল তেলবাহী জাহাজ (সুপার ট্যাংকার) হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়েছে। জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা এলএসইজি ও কেপলার জানিয়েছে, বুধবার (১৫ এপ্রিল) ‘আরএইচএন’ নামক একটি ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) জাহাজ পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ চলার মধ্যেই দ্বিতীয় ট্যাংকার হিসেবে হরমুজ পাড়ি দিলো এই জাহাজ। ২০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল বহনে সক্ষম ট্যাংকারটি কোন দিকে যাচ্ছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট হওয়া যায়নি।

দীর্ঘদিনের সংঘাত ও বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে এক ঐতিহাসিক কূটনৈতিক আলোচনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে লেবানন ও ইসরায়েল। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানে আজ বৃহস্পতিবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন-এর সঙ্গে ফোনালাপ করতে যাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সদস্য গালিয়া গামলিয়েল আজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হোয়াইট হাউসের প্রচণ্ড চাপের মুখে ইসরায়েল শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে। বুধবার রাতে নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা এ নিয়ে জরুরি বৈঠকও করেছে। মন্ত্রী গালিয়া গামলিয়েল রেডিওকে বলেন, এত বছরের বিচ্ছিন্নতার পর দুই দেশের মধ্যে এই কথোপকথন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আশা করা যায়, এই পদক্ষেপ দুই দেশ’কে একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাবে।
যদিও লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে শুরুতে এমন কোনো যোগাযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বলছে, এর নেপথ্যে বড় ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতা চলছে। এই ফোনালাপ সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এক যুগান্তকারী মোড় হিসেবে তা চিহ্নিত হবে।
এই আলোচনার প্রেক্ষাপট তৈরি হয় মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে। গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) নিজের প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ ট্রাম্প লিখেছিলেন, "ইসরায়েল ও লেবাননের নেতারা আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) আলোচনায় বসবেন।" এরপরই আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এবং লেবাননের প্রেসিডেন্টের সাথে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই ত্রিপক্ষীয় ফোনালাপে যুক্ত হতে পারেন।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন করে বাড়ার মধ্যে কয়েক দিনের ব্যবধানে আরও কয়েক হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, এই সেনা মোতায়েনের মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানের ওপর চাপ বাড়ানো এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি রাখা।
বর্তমানে যে সেনাদের পাঠানো হচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ বিমানবাহী রণতরি এবং তার নিরাপত্তায় থাকা যুদ্ধজাহাজগুলোর প্রায় ৬ হাজার নৌসেনা। এছাড়া আরও প্রায় ৪ হাজার ২০০ মেরিন সদস্যও এই মোতায়েনের অংশ হিসেবে যুক্ত হচ্ছেন।
সব মিলিয়ে চলতি মাসের শেষ দিকে নতুন এই বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। নতুন বাহিনী যোগ হলে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি পারমাণবিক চুক্তিতে আনতে চাপ দিচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরান যদি চুক্তিতে রাজি না হয়, তাহলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
সম্প্রতি ট্রাম্প ইরানের বন্দর ব্যবহার ও নৌ চলাচলের ওপর অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েও কৌশলগত চাপ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, অবরোধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগরসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চায়, তবে সব ধরনের বিকল্প খোলা রাখা হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে কূটনৈতিক ও সামরিক দুই ধরনের চাপ প্রয়োগের সক্ষমতা বাড়বে।
সব মিলিয়ে, ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এখন আরও স্পষ্টভাবে সংঘাতমুখী পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা যখন থমথমে, ঠিক সেই মুহূর্তেই কূটনৈতিক তৎপরতায় নেমেছে পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আবারও আলোচনার টেবিলে বসাতে চার দিনের গুরুত্বপূর্ণ সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সফরের গন্তব্য সৌদি আরব, কাতার এবং তুরস্ক। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি আরব ও কাতারে হবে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, আর তুরস্কে আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের ফাঁকে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন তিনি। এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি জানিয়েছেন, শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে জোরালো যোগাযোগ করছেন শাহবাজ।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলছে দুই সপ্তাহের নাজুক যুদ্ধবিরতি। যার মেয়াদ ২২ এপ্রিল পর্যন্ত। তবে এর মধ্যেও উত্তেজনা থামেনি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এর ২১ ঘণ্টার বৈঠক ব্যর্থ হলেও, নতুন করে আলোচনার আশার আলো দেখছেন কূটনীতিকরা। এদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন খুব শিগগিরই পাকিস্তানে আবারও আলোচনা শুরু হতে পারে। সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে উঠে এসেছে ইসলামাবাদ ও জেনেভার নাম। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলছেন, এই সংকট এক বৈঠকে সমাধান সম্ভব নয়, তবে আলোচনা আবার গতি পাবেব এটাই আশার জায়গা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে যেকোনো আলোচনা হবে কঠিন পরীক্ষার মুখে। কারণ যুদ্ধবিরতির মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ আর ইরানের হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ সীমিত করার সিদ্ধান্তে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বমুখী। এখন প্রশ্ন একটাই কূটনীতির এই দৌড় কি থামাতে পারবে সম্ভাব্য সংঘাত, নাকি পরিস্থিতি গড়াবে আরও বড় সংকটের দিকে ?