ঘুমের অভাব ও মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে মাথাব্যথার ঝুঁকি, চিকিৎসকরা দিচ্ছেন সতর্কতার বার্তা

মাথাব্যথা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের খুবই পরিচিত একটি সমস্যা। প্রায় প্রত্যেক মানুষই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এই সমস্যায় ভোগেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বে প্রায় ৭৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ বছরে অন্তত একবার মাথাব্যথার অভিজ্ঞতা পান। ক্লান্তি, ঘুমের অভাব কিংবা মানসিক চাপ এসবই হতে পারে এর সাধারণ কারণ। তবে সব মাথাব্যথা একরকম নয়। কখনও এটি হতে পারে সাধারণ টেনশন হেডেক, আবার কখনও মাইগ্রেন যেখানে মাথার একপাশে তীব্র স্পন্দনশীল ব্যথা অনুভূত হয়। এর সঙ্গে থাকতে পারে বমি বমি ভাব, কিংবা আলো ও শব্দে অস্বস্তি।
চিকিৎসকরা বলছেন, অনেক সময় আমরা তীব্র মাথাব্যথাকে মাইগ্রেন ভেবে অবহেলা করি। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এই ব্যথার পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে গুরুতর রোগ। যেমন হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথার সঙ্গে যদি দেখা দেয় মুখ বেঁকে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা হাত পা অবশ হয়ে যাওয়া তাহলে সেটি হতে পারে স্ট্রোকের লক্ষণ। যা একেবারেই জরুরি চিকিৎসার বিষয়। এছাড়াও, দীর্ঘদিনের মাথাব্যথা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে এটি উদ্বেগ ও বিষণ্নতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মাথাব্যথাকে কখনও হালকাভাবে নেওয়া উচিৎ নয়। ব্যথার ধরনে হঠাৎ পরিবর্তন, অস্বাভাবিক তীব্রতা বা নতুন কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ। তবে কিছু সহজ অভ্যাসেও মাথাব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। যেমনঃ নিয়মিত ঘুম, মানসিক চাপ কমানো, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা।
মনে রাখবেন মাথাব্যথা শুধু একটি সাধারণ সমস্যা নয়, কখনও কখনও এটি হতে পারে বড় কোনো রোগের পূর্বাভাস। তাই মাথাব্যথাকে অবহেলা না করে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

নাজমুল গাজী
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।







