প্রস্তাবিত বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ রাখায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আবাসন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ- রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ২০২৬-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের বিষয়ে দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি একথা বলেন।

ড. আলী আফজাল বলেন, আমি বিগত ১৫–২০ দিন ধরে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় অপ্রদর্শিত অর্থকে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে দাবি জানিয়ে আসছি। সেই প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থকে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় অর্থমন্ত্রী এবং এনবিআর চেয়ারম্যানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপ্রদর্শিত অর্থ বিভিন্ন কারণে দীর্ঘদিন ধরে মূলধারার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে অবস্থান করছে। আমরা বিশ্বাস করি, সেই অর্থ যদি আবাসনসহ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের সুযোগ পায়, তাহলে তা অর্থনীতির মূল স্রোতে ফিরে আসবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আবাসন খাত দেশের অন্যতম বৃহৎ কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাত। এই খাতের সঙ্গে প্রায় ২৬৯টি লিংকেজ শিল্প প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। ফলে আবাসন খাতে নতুন বিনিয়োগ শুধু ফ্ল্যাট বা ভবন নির্মাণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং রড, সিমেন্ট, সিরামিক, বৈদ্যুতিক পণ্য, আসবাবপত্র ও পরিবহনসহ অসংখ্য খাতে নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সৃষ্টি করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন আবাসন ব্যবসায়ীদের এই শীর্ষ সংগঠনের সভাপতি।

রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিতে তারল্য প্রবাহ বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মনে করি, নির্ধারিত কর পরিশোধের মাধ্যমে অপ্রদর্শিত অর্থকে বৈধ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার ফলে অর্থনীতির মূলধারায় নতুন অর্থ প্রবাহিত হবে এবং আবাসন খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতি উপকৃত হবে।

তবে একই সঙ্গে আমরা মনে করি, দীর্ঘমেয়াদে একটি সহজ, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব করব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি, যাতে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর প্রদান করে এবং অপ্রদর্শিত অর্থ সৃষ্টির প্রবণতা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়।

তবে আমরা সরকারের এই ইতিবাচক উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও রডসহ নির্মাণ সামগ্রীর ওপর আরোপিত অতিরিক্ত করের বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা মনে করি, এই ধরনের অতিরিক্ত কর আবাসন খাতে নির্মাণ ব্যয় বাড়াবে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ বিষয়ে সরকারের পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রাইমটিভি/কেআর