মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, শিল্প উৎপাদন, কৃষিকাজ এবং বিমান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আরও প্রায় পাঁচ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হচ্ছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মোট চার লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেলের মধ্যে রয়েছে তিন লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এবং ৯০ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল। এসব তেল সরবরাহ করবে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড। পুরো আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাত হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসি এই জ্বালানি তেল কিনছে। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ইতোমধ্যেই এ প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, দেশের চাহিদা বিবেচনায় সরকার সাধারণত প্রতি ছয় মাস পরপর জ্বালানি তেল আমদানি করে। প্রশাসনিক অনুমোদনের পর এখন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই তেল সরবরাহ শুরু হবে।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৬০ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য এই মজুত ৯০ দিনে উন্নীত করা, যাতে বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও দেশে জ্বালানি সরবরাহে কোনো সংকট না তৈরি হয়।

বিপিসির ব্যবস্থাপক মো. মিজানুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত চুক্তির পর দ্রুত তেল দেশে আসতে শুরু করবে।

জ্বালানি বিভাগ আরও জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। ডলার সংকটের মধ্যেও এলসি খোলায় অগ্রাধিকার দেওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে মূল্য নির্ধারণের স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রাইমটিভি/এনজি