যুক্তরাজ্যে নতুন ভিসানীতি চালুর আগেই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সংকটে পড়েছে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগেই ভর্তি কমে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে উচ্চশিক্ষা খাতে।

ব্রিটিশ ইউনিভার্সিটিজ ইন্টারন্যাশনাল লিয়াজোঁ অ্যাসোসিয়েশন বা বিইউআইএলএর এক জরিপে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আগের বছরের তুলনায় ৭০ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ভর্তি কমেছে। একই সময়ে মোট ভর্তি কমেছে ৩১ শতাংশ। আগামী জুন থেকে যুক্তরাজ্যে চালু হচ্ছে ‘ট্রাফিক-লাইট’ ভিত্তিক নতুন ভিসা কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় শিক্ষার্থী ভিসা অনুমোদন ও প্রত্যাখ্যানের হারের ওপর ভিত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে রেটিং দেওয়া হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ৪ শতাংশের নিচে থাকবে, তারা পাবে ‘সবুজ’ রেটিং। তবে ‘অ্যাম্বার’ রেটিং পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পড়তে পারে কঠোর বিধিনিষেধে, এমনকি বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি সীমিত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

জরিপ বলছে, প্রায় অর্ধেক বিশ্ববিদ্যালয়ই অন্তত একটি নন-গ্রিন রেটিং পাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই কিছু দেশের শিক্ষার্থী ভর্তি স্থগিত করেছে এবং যাচাই-বাছাই কঠোর করেছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর প্রধান উৎস দেশগুলোর মধ্যেও কমেছে ভর্তির হার। ৬৬ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে ভারত থেকে শিক্ষার্থী কমেছে। পাকিস্তান থেকে কমেছে ৮২ শতাংশ এবং বাংলাদেশ থেকে কমেছে ৬৫ শতাংশ। কিছু ক্ষেত্রে পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের তুলনায় তিন-চতুর্থাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এদিকে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এখন বাড়তি আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ, বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই সাক্ষাৎকার এবং বেশি অগ্রিম জামানত চাওয়া হচ্ছে।

বিইউআইএলএর চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু বার্ড বলেছেন, যুক্তরাজ্যে শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবস্থাপনা আগেই কঠোর ছিল। তবে সরকার বারবার নিয়ম পরিবর্তন করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। জরিপে আরও উঠে এসেছে, জানুয়ারির ভর্তি মৌসুমে ৬০ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়েছে। যা কঠোর নজরদারির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে প্রকৃত শিক্ষার্থীরাও নিরুৎসাহিত হবে। দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষা বাজারে যুক্তরাজ্যের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।