দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করতে আগামী বছর থেকে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সকল আবশ্যিক ও সাধারণ বিষয়ের পরীক্ষা একই দিনে এবং অভিন্ন (একক) প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করেছন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ।

বুধবার সকালে রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ উপলক্ষে চার শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সাথে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান। সেখানে তাকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'একটি রাষ্ট্র, একটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং একই সিলেবাস হওয়া সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন বোর্ডে আলাদা আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমরা এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডকে এক সুতায় বেঁধেছি, একক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী বছর থেকে মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের ক্ষেত্রেও বাংলা, ইংরেজির মতো সাধারণ বিষয়গুলোর পরীক্ষা অভিন্ন প্রশ্নপত্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে।'

এনটিআরসিএ'র মূল প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ড. শিক্ষামন্ত্রী, '২০০১ থেকে ২০০৬ সালে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন ওভার-স্যাচুরেটেড (অতিরিক্ত) প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যত্রতত্র স্কুল-কলেজ খোলা বন্ধ করতে তিনি এনটিআরসিএ গঠন করেছিলেন। এর উদ্দেশ্য ছিল চিকিৎসকদের পিএমডিসি বা আইনজীবীদের বার কাউন্সিলের মতো শিক্ষকদের যোগ্যতার একটি রাষ্ট্রীয় সনদ দেওয়া, সরাসরি চাকরি দেওয়া নয়। কিন্তু বিগত সরকার একে ডাল-খিচুড়ি বানিয়ে ফেলেছে। ফলে উত্তীর্ণ শিক্ষকেরা ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত চাকরির জন্য ঘুরছেন।'

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিগত সরকারের আমলে কোনো নিয়ম না মেনে প্রতি ৩ কিলোমিটারের মধ্যে অপরিকল্পিতভাবে স্কুল ও মাদ্রাসা স্থাপন করা হয়েছে। ২৩ থেকে ২৬ শতক জায়গার ওপর ঘর তুলে নিবন্ধনহীন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে শিক্ষকদের যোগ্যতার কোনো সঠিক যাচাই করা হয়নি।

মন্ত্রী জানান, ইবতেদায়ী ও প্রাথমিক স্কুলের মধ্যে দ্রুত সমন্বয় এবং এই লাগামহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি নিয়মের মধ্যে আনতে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ মো. আক্তারুজ্জামানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ৭ এর সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং জেলা-উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রাইমটিভি/এমআর