স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার উপপরিচালক ডা. সৈয়দ আবু আহাম্মদ শাফীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের নিয়ে করা মন্তব্যের তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ)। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার (২৪ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএইচআরএফ নেতারা বলেন, স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, সেবার মান, রোগীদের ভোগান্তি এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে গণমাধ্যমে তুলে ধরছেন সাংবাদিকরা। এসব প্রতিবেদন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়; বরং জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় সেবায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার অংশ।

বিবৃতিতে বলা হয়, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের প্রতিক্রিয়ায় বিদ্রূপাত্মক ও অবমাননাকর মন্তব্য করে শুধু সাংবাদিক সমাজকেই হেয় করেননি, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীন ও দায়িত্বশীল ভূমিকাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন।

সংগঠনটির মতে, স্বাস্থ্য খাতের সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে সংবাদ প্রকাশে অসন্তুষ্ট হয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের মন্তব্য করা দায়িত্বশীল প্রশাসনিক আচরণের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। সরকারি দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন বক্তব্য প্রত্যাশিত নয়। বরং এটি সমালোচনা গ্রহণের সক্ষমতা, জবাবদিহির সংস্কৃতি এবং গণমাধ্যম সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।

বিএইচআরএফ আরও বলেছে, দেশের সাংবাদিকদের হাসপাতালের টয়লেট ও বাথরুম পরিষ্কারের দায়িত্ব দেওয়ার মতো মন্তব্য সাংবাদিকতা পেশার প্রতি চরম অবজ্ঞা ও অসম্মানের বহিঃপ্রকাশ। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবাখাতের দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন মন্তব্য কোনোভাবেই শোভন, গ্রহণযোগ্য বা দায়িত্বশীল আচরণের মধ্যে পড়ে না।

বিবৃতিতে গণমাধ্যমকে প্রতিপক্ষ নয়, বরং জনস্বার্থ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার অংশীদার হিসেবে দেখার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে তাদের হেয় করার চেষ্টা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক সংস্কৃতির পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের প্রতি সম্মানজনক এবং পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

প্রাইমটিভি/এমএইচ