চট্টগ্রামের উত্তর কাট্টলীর রানী রাসমনি ঘাটে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে সড়কে মাছ ও বরফ ঢেলে অভিনব প্রতিবাদ করেছেন স্থানীয় জেলে ও আড়তদাররা। এ সময় তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

বুধবার (২৪ জুন) সকালে নগরীর রানী রাসমনি ঘাট এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে স্থানীয় জেলে, আড়তদার এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সহসভাপতি মো. দিদারুল ফেরদৌসের নেতৃত্বে একটি চক্র গত ২৩ এপ্রিল থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) রাজস্ব আদায়ের নামে ঘাটে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করছে।

তাদের দাবি, প্রতি টুকরা বরফে ৫ টাকা, প্রতি কেজি মাছে ৫ টাকা এবং ট্রলারে ব্যবহৃত প্রতিটি গ্যাস সিলিন্ডারের জন্য ১০০ টাকা করে জোরপূর্বক আদায় করা হচ্ছে। প্রশাসনের কোনো অনুমোদন ছাড়াই চসিকের নাম ব্যবহার করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাগরে কঠোর পরিশ্রম করে মাছ ধরে আনার পর ঘাটে নামানোর সঙ্গে সঙ্গেই আয়ের একটি বড় অংশ চাঁদা হিসেবে দিতে বাধ্য হচ্ছেন জেলেরা। এতে তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। অবিলম্বে এ চাঁদাবাজি বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

রানী রাসমনি ইলিশ ঘাট ব্যবসায়ী সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, "জেলেদের পেশা ও জীবিকা রক্ষায় এই সমস্যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আমরা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।"

তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. দিদারুল ফেরদৌসের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি ১৪৩৩ বঙ্গাব্দে রানী রাসমনি ঘাট ইজারা দেওয়া হয়নি এবং খাস আদায়ের দায়িত্বও কাউকে দেওয়া হয়নি।

চসিকের জনসংযোগ ও প্রটোকল কর্মকর্তা আজিজ আহমদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পতেঙ্গা আউটার রিং রোডের পশ্চিমে অবস্থিত রানী রাসমনি ঘাটে চলতি বাংলা সনে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা বা রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। ঘাটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

প্রাইমটিভি/এমএইচ