মাদক নিয়ে বিরোধের জেরে খুন, বিকৃত করা হয় মরদেহ

ছবিঃ সংগৃহীত
গাজীপুরের কালীগঞ্জে সাইফুল ইসলাম (৪৮) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মাদক সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। পরে পরিচয় গোপন করতে মরদেহ বিকৃত করে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন, কালীগঞ্জ উপজেলার অলুয়া গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে মো. রেজাউল করিম (৫০), একই গ্রামের আব্দুল আলী মিন্টুর ছেলে মো. নাজিম মিয়া (২৫) এবং টিউরী গ্রামের মো. শাহজাহানের ছেলে মো. আবু তাহের (৩২)।
ডিবি জানায়, গত ২ জুন সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার তুমুলিয়া ইউনিয়নের উলুয়া এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে এক ব্যক্তির ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের বড় ভাই আব্দুস সালাম মরদেহটি সাইফুল ইসলামের বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের হলে গাজীপুর পুলিশ সুপারের নির্দেশে তদন্তভার নেয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশের ভাষ্য, প্রধান আসামি রেজাউল করিমের সঙ্গে নিহত সাইফুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে মাদক সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। রেজাউল ও আবু তাহের এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে দাবি পুলিশের। ওই বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ২ জুন রাতে সাইফুলকে একটি কলাবাগানসংলগ্ন নদীর তীরে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর পরিচয় গোপন করতে নিহতের মুখ ও মাথা থেঁতলে বিকৃত করে মরদেহ রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয় বলে জানিয়েছে ডিবি।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন বলেন, প্রধান আসামি রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে আগেও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর আসামিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রাইমটিভি/এমএইচ

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।





