"শুনলে বজ্রধ্বনি, ঘরে যাই তখনই” এই স্লোগানে আগামী ২৮ জুন নানান আয়োজনে দেশে পালিত হবে আন্তর্জাতিক বজ্রপাত নিরাপত্তা দিবস।

দিবসটি উপলক্ষে বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হলো এক মতবিনিময় সভা। বজ্রপাত জনিত ঝুঁকি হ্রাস, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আগাম সতর্কবার্তা কার্যকরভাবে প্রচারের বিষয়ে অংশীজনদের নিয়ে যৌথভাবে এই আয়োজন করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা রাইমস Regional Integrated Multi-Hazard Early Warning System (RIMES) এবং ইউনিসেফ। সভায় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের চলমান উদ্যোগ, বজ্রপাত পূর্বাভাসের সক্ষমতা এবং এ ধরনের পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা প্রচারে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, বজ্রপাতজনিত প্রাণহানি কমাতে শুধু পূর্বাভাস প্রদানই যথেষ্ট নয়; সময়মতো সঠিক সতর্কবার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, কৃষক, জেলে, শিক্ষার্থী এবং উন্মুক্ত স্থানে কাজ করা মানুষের কাছে সহজ ভাষায় সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপপরিচালক মো. নুরুল করিম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক নেতাই চন্দ্র দে সরকার, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা। সভায় বজ্রপাত পূর্বাভাস বিষয়ে প্রারম্ভিক বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের জলবায়ু মহাশাখার উপপরিচালক ড. রাশেদুজ্জামান।

রাইমস-এর ওয়েদার এক্সপার্ট খান মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী বজ্রপাত বিষয়ে একটি উপস্থাপনা প্রদান করেন। উপস্থাপনায় তিনি বজ্রপাত সম্পর্কিত প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা তুলে ধরেন এবং বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে এ বিষয়ে সঠিক তথ্য প্রচার ও সচেতনতা বৃদ্ধির প্রযোজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন।

উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীরা বজ্রপাতের পূর্বাভাস বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার, পাঠ্যপুস্তকে বজ্রপাত সচেতনতা অন্তর্ভুক্ত করা, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা, মসজিদভিত্তিক যোগাযোগ কৌশল তৈরি এবং সরকারি বিনিযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। এছাড়া, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে "মেট ক্লাব" সম্প্রসারণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবহাওয়া পূর্বাভাসের গুরুত্ব ও বজ্রপাত বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়।

আলোচনায় আরও বলা হয়, বজ্রপাতের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর সুনির্দিষ্ট মানচিত্র তৈরি করা প্রযোজন। এসব এলাকায় পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা প্রচার জোরদার করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কৃষক এবং গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য বিশেষ সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ আযোজনের বিষয়েও মত দেন অংশগ্রহণকারীরা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক নিতাই চন্দ্র দে সরকার বজ্রপাতের ঝুঁকি হ্রাসে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি জেলায় কয়েক হাজার বজ্রনিরোধক দণ্ডসহ কৃষকদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং আগাম সতর্কবার্তা প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সভার সমাপনী বক্তব্যে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও সুপারিশকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের মতো অবকাঠামোগত উদ্যোগের পাশাপাশি আগাম সতর্কবার্তা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বজ্রপাত বিষয়ে আচরণগত পরিবর্তন আনতে সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

প্রাইমটিভি/এমএইচ