যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়াসহ ২২টি দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানকে তাদের ভূখণ্ডে কথিত হামলা, অপহরণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো অভিযোগ করে, ইরানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় বিভিন্ন ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় অপরাধী চক্রকে ব্যবহার করছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, “আমাদের ভূখণ্ডে হত্যা, অপহরণ কিংবা ভয় দেখানোর যেকোনো প্রচেষ্টা জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এসব কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।”

দেশগুলো আরও অভিযোগ করেছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর গোয়েন্দা শাখা এবং এর বৈদেশিক অভিযান ইউনিট ‘কুদস ফোর্স’ ভিন্নমতাবলম্বী, সাংবাদিক, ইহুদি ও ইসরায়েলি সম্প্রদায় এবং তাদের স্বার্থকে লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী ষড়যন্ত্র ও বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, “আমাদের জনগণ ও রাষ্ট্রকে এসব হুমকি থেকে রক্ষা করার ব্যাপারে আমরা ঐক্যবদ্ধ এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে অবিলম্বে এসব কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।”

বিবৃতিতে ইউরোপজুড়ে ইহুদি সম্প্রদায়, ইরানি ও মার্কিন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার জন্যও ইরানকে দায়ী করা হয়। এসব ঘটনার দায় এর আগে ইরান-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ‘হারাকাত আশহাব আল-ইয়ামিন আল-ইসলামিয়া’ নামের একটি গোষ্ঠী স্বীকার করেছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোষ্ঠীটি যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসে ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে হামলার দায় স্বীকার করেছে। এছাড়া উত্তর লন্ডনে দুই ইহুদি ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত এবং কয়েকটি সিনাগগ ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনাতেও নিজেদের সম্পৃক্ততার দাবি করেছে।

অস্ট্রেলিয়া গত বছরের আগস্টে দেশটিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে। তেহরানের বিরুদ্ধে মেলবোর্নের একটি সিনাগগ ও সিডনির একটি কোশার ক্যাফেতে অগ্নিসংযোগসহ অন্তত দুটি ইহুদিবিদ্বেষী হামলার অভিযোগ আনে ক্যানবেরা।

পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া তেহরান থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে এবং দূতাবাসের কার্যক্রম স্থগিত করে। গত নভেম্বরে দেশটি আইআরজিসিকে সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় মদদদাতা হিসেবে চিহ্নিত করে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অস্ট্রেলিয়ার ওই সিদ্ধান্তকে ‘অপমানজনক’, ‘অযৌক্তিক’ এবং আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক নীতিমালার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছিল।

যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডসহ মোট ২২টি দেশ।

সূত্র: এএফপি